নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ জুন, ২০২৬ ২২:২৬

সিলেটে তাবলিগের আমির হত্যা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্ত্রী আপিলে খালাস

এক দশকের বেশি সময় আগে সিলেটে নিজ বাড়িতে খুন হন তাবলিগ জামাতের স্থানীয় আমির ইব্রাহিম আবু খলিল। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া তাঁর স্ত্রী ফাতিহা মাশকুরাকে খালাস দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে ফাতিহার করা আপিল মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ বুধবার এ রায় দেন।

ওই মামলায় ২০১৬ সালের ৬ জুন সিলেটের আদালত রায় দেন। রায়ে খলিলের স্ত্রী ফাতিহাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন) ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন। তাতে ফাতিহার মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। এর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে আপিল করেন ফাতিহা।

আদালতে আপিলকারী ফাতিহার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কামাল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সাইফুদ্দিন খালেদ।

পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, বিচারিক আদালত ফাতিহাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন, যা হাইকোর্ট বহাল রাখেন। এর বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন। এই আপিল মঞ্জুর করেছেন আপিল বিভাগ, বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টের রায় বাতিল করেছেন। আপিলকারীকে নির্দোষ সাব্যস্ত করে খালাস দিয়েছেন। কারা হেফাজতে তিনি জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এখন তাঁর মুক্তিতে বাধা নেই।

ইব্রাহিম আবু খলিল তাবলিগ জামাতের ধোপাদিঘিরপাড় আঞ্চলিক শাখার মুরব্বি (আমির) ছিলেন। সিলেট নগরের সওদাগরটুলায় নিজ বাড়ির শোবার ঘর থেকে ২০১৫ সালের ১৮ মে তাঁর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তখন ওই বাড়ি থেকে খলিলের স্ত্রী ফাতিহাকে আটক করা হয়। তিনি খলিলের প্রথম স্ত্রী। খলিলকে হত্যা করেছেন বলে পরদিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ফাতিহা। এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ১৯ মে কোতোয়ালি থানায় মামলা করে পুলিশ।

ওই মামলায় শুধু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ছাড়া ফাতিহার বিরুদ্ধে আর কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই উল্লেখ করে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির আগে চিন্তাভাবনার সময় দেখা যায়—একজন নারী পুলিশ সদস্য ছিলেন এবং তাঁর সইও পাওয়া যায়। কাজেই পুলিশের হেফাজতে যদি আসামি থাকেন, আর পুলিশ যদি সেখানে উপস্থিত থাকে, তাহলে স্বীকারোক্তি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হওয়া নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তাই ওই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণযোগ্য নয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত