০২ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০৪
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন শিশুর শৈশব যদি মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে থাকে তাহলে বড় হয়ে দেশের প্রতি অবশ্যই তার ভালবাসা থাকবে। কারন দেশকে জানার জন্য নব প্রজন্মের উপযুক্ত জায়গা হলো বিদ্যালয়। শুধু পাঠ্য পুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের কথা সীমাবদ্ধ না রেখে তা নানাভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে শিশু মনে। এ জন্য প্রতিটি স্কুলে শহিদ মিনার আর মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার গড়ে তোলা খুব প্রয়োজন।
গোলাপগঞ্জ উপজেলার উত্তর ভাদেশ্বর কুড়ির বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে "মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি উদ্বোধন ও উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন অভিভাবক সমাবেশ' শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রহমান।
শত বছরের পুরনো এ বিদ্যালয় গতকাল নবরুপে সজ্জিত হওয়ার উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি আর স্কুল লাইব্রেরির উদ্বোধন করেন। পরবর্তিতে এই স্কুলে একটি শহিদ মিনার নির্মাণ ও লাইব্রেরিতে বই দেওয়ার ব্যাপারেও কথা দেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের দেশের ইতিহাস জানাতে পুরো স্কুলের দেয়ালে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার দৃশ্য থেকে সমকালীন দেশের প্রেক্ষাপট। প্রত্যন্ত গ্রামের এই স্কুলের প্রতিটি শ্রেণীকক্ষ সাজানো হয়েছে শিশুদের কল্পনার রঙয়ে। কোথাও মুর্তমান বাস্তব হয়ে উঠেছে প্রাণের শহীদ মিনার, কোথাওবা দৃপ্ত পায়ে হেটে যাচ্ছে জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার। অবহেলিত এই স্কুলটির প্রতিটি কক্ষে লাগানো হয়েছে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার সকল উপকরণ।
বাথরুমের পাশে আছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক উপদেশ কার্টূন, আছে বিভিন্ন দেয়ালে মনিষীদের অমর বাণী। হাসন রাজা বঙ্গবীর ওসমানী থেকে সিলেট সহ জাতীয় পর্যায়ের সকল কিংবদন্তির ছবি আঁকা হয়েছে প্রতিটি শ্রেণী কক্ষের সামনে। অথচ দু বছর আগে এই স্কুলে পাকা দালানও ছিলো না। একতলা বিল্ডিং হওয়ার পরে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহীন আহমেদের একক অর্থায়নে করা হয়েছে নতুন এই সাজসজ্জা।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুবর্না ধরের আশা অদুর ভবিষতে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ট স্কুল হবে কুড়ির বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে সেজন্য স্কুলে আরো শিক্ষক নিয়োগ ও দুইতলা ভবন সম্পন্ন করার জন্য সরকারের সাহায্য প্রার্থনা করেছেন তিনি। তার পরিকল্পনাতেই মুলত ভিন্ন রুপ পেয়েছে স্কুলটি।
স্কুলের শিক্ষার্থীদের সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে সুচিত উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেন জামাল আহমেদ। এসএমসির কর্নধার শাহীন আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন গোলাপগঞ্জের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার পারভেজ তালুকদার, সহকারী ভুমি কমিশনার সুমন্ত ব্যানার্জি, সাত নং লক্ষনাবন্দ উইনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নছীরুল হক শাহীন, ৮ নং ভাদেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জিলাল উদ্দিন, গোলাপ গঞ্জ সহকারী শিক্ষা অফিসার খায়রুজ্জামান,ইউ আর সি ইন্সট্রাকটর মফিজ উদ্দিন ভুইয়া, ভাদেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামিলিগ সাধারন সম্পাদক ছালিক আহমদ,ইকবাল চৌধুরী বকুল, স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা নামীম আরা বেগমড. ফখর উদ্দিন, আবদুল মালিক চাকলাদার,সিরাজ উদ্দিন মিয়া, আব্দুস ছালিক , শামীম আহমদ,রাহাত চাকলাদার, শফিক উদ্দিন, নিলু আহমেদ ,অনাথ বন্ধু, হাসান আহমদ,সামছুদ্দীন,সনথ চন্দ্র ,অধ্যক্ষ নাসীম আরা,সেলিম আহমেদ , বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য সহ সভাপতি সিরাজ মিয়া, জিমিদাতা সদস্য শফিক উদ্দিন, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিনিধি আনোয়ার হুসেন, শিক্ষক প্রতিনিধি আবু জাফর ছাকি, ইউপি মেম্বার মহিদুজ্জামান লাভলু, হেপি বেগম ইয়াসমিন আক্তার সহ আরো অনেক।
অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের ক্রেস্ট তুলে স্কুলের সভাপতি শাহীণ আহমেদ। এ সময় স্কুলের প্রাক প্রাথমিক শিক্ষকের শূন্য পদে একজন নিয়মিত শিক্ষকের ব্যাপারে আবেদন জানান প্রধান শিক্ষিকা সুবর্না ধর।
আপনার মন্তব্য