১২ এপ্রিল, ২০১৯ ১৭:০৭
নুসরাত হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে রোববার সকল শিক্ষাবোর্ড’র পক্ষ থেকে এইস এইচ সি সমমান ও দাওরায়ে হাদীসের পরীক্ষার্থীদের ১০ মিনিট পরীক্ষা বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানানোর আহবান জানিয়েছেন মাদানী কাফেলা বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা রুহুল আমীন নগরী।
শুক্রবার (১২ এপ্রিল) বাদ জুম্মা ফেনী সোনারগাজী পৌর এলাকায় ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যার প্রতিবাদে সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই আহবান জানান।
১লা বৈশাখ সারাদেশে রাষ্ট্রিীয় ভাবে প্রতিবাদ দিবস পালন,একই সাথে আগামী রোববার সকল শিক্ষাবোর্ড’র পক্ষ থেকে এইস এইচ সি সমমান ও দাওরায়ে হাদীসের পরীক্ষার্থীরা নুসরাত হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে অন্তত
মাদানী কাফেলা বাংলাদেশ আয়োজিত ও প্রচার সম্পাদক হাফিজ আব্দুল করিম দিলদারের পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব, মাদানী কাফেলা বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সালেহ আহমদ শাহবাগী, সিলেট জেলা আহবায়ক হাফিজ মাওলানা মাসুদ আজহার, যুব নেতা মাওলানা ফয়সল আহমদ, মাদরাসাতুল মদিনা সিলেটের শিক্ষাসচিব মুফতি মোহাম্মদ জাকারিয়া খান, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাওলানা কবির আহমদ, মাওলানা খালেদ আ্হমদ হরিপুরী, ছাত্রনেতা হাফিজ ফয়েজ উদ্দিন, মাওলানা হাবিবুর রহমান, হাফিজ জাহেদ আহমদ, ফাহিম আহমদ সুমন, কে এম লুকমান প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ফেনীতে আলিয়া মাদারসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন হয়রানী ও নিষ্ঠুর ভাবে অগ্নিদগ্ধ করে হত্যার ঘটনা পৃথিবীর সকল বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। এ পাশবিক হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। যেন এ বিচার থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের জঘন্যতম অপরাধ করার দুঃসাহস না দেখায়।
বক্তারা আরো বলেন, অপরাধীরা বারবার বিনা বিচারে পার পাওয়ায় এ ধরনের ভয়াবহ অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তবে এ মামলায় কোন প্রকার গাফলতি দেশবাসি বরদাশত করবে না। নুসরাত হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করে প্রকাশ্যে দিবালোকে ফাসিঁ কার্যকরের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন মাদ্রাসা শিক্ষক সিরাজ উদ্দৌলা এই নামটিকে কলঙ্কিত করেছে। তার ফাঁসি না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তার এমন অনৈতিক কর্মকান্ডে দেশের আলেম সমাজসহ সাধারণ মানুষ হতাশ হয়েছে। যারা ব্যক্তিজীবন ও সামাজিক জীবনে ইসলামের নবী মোহাম্মদ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা.) এর সঠিক আদর্শ বাস্তবায়ন করতে পারে না তাদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া অনুচিত। এরা শিক্ষক নামে অযোগ্য।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- কক্সবাজার মসজিদে মাদক বিরোধী বক্তব্য দেয়ায় একজন ইমামকে এভাবে নির্যাতন মেনে নেয়া যায় না। অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে নুসরাত হত্যাকারী ও ইমাম নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
আপনার মন্তব্য