স্পোর্টস ডেস্ক

১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৯:০২

৭ গোলের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে রিয়ালকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বায়ার্ন

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ

ম্যাচের প্রথম মিনিটেই গোল করে বসলেন রিয়াল মাদ্রিদের আর্দা গিলের। প্রথম মিনিটের গোলে প্রথম লেগের ব্যবধান কমিয়ে আনল ইউরোপ সেরা ক্লাবটি। এরপর একের পর এক হয়েছে গোল। ম্যাচ গেছে কখনও ওদিকে, কখনও এদিকে। তবে শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসল বায়ার্ন মিউনিখ।

আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বুধবার রাতে কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ৪-৩ গোলে জিতল স্বাগতিকরা। প্রথম দেখায় ২-১ ব্যবধানে জয়ী বায়ার্ন দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ অগ্রগামিতায় তারা স্থান করে নিলো শেষ চারে।

প্রথমার্ধে হয় গোল উৎসব। প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগে যার শুরুটা করেন আর্দা গিলের। পরে আরেকটি দারুণ গোল করেন তিনি। দুইবার পিছিয়ে পড়ে আলেকসান্দার পাভলোভিচ ও হ্যারি কেইনের গোলে সমতায় ফেরে বায়ার্ন।

কিলিয়ান এমবাপের গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় রিয়াল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে চাপ ধরে রেখে জয় তুলে নেন লুইস দিয়াস ও মাইকেল ওলিসে।

ম্যাচের শুরুতেই যেভাবে তালগোল পাকান মানুয়েল নয়ার, সত্যিই অবিশ্বাস্য। মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের ব্যাকপাস পেয়ে, পোস্ট ছেড়ে অনেকটা এগিয়ে ডান দিকে আরেক সতীর্থকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন জার্মান গোলরক্ষক, কিন্তু বলে ঠিকঠাক গতি ছিল না। মাঝপথে বল ধরেই দারুণ বাঁকানো শট নেন গিলের, বল ক্রসবার ঘেঁষে জড়ায় জালে।

ম্যাচের ঘড়িতে সময় তখন ৩৫ সেকেন্ড! চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রেকর্ড চ্যাম্পিয়নদের হয়ে সবচেয়ে দ্রুততম গোলের নতুন রেকর্ড গড়লেন তুর্কি মিডফিল্ডার।

পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচে সমতা টেনে, দুই লেগ মিলিয়ে আবার এগিয়ে যায় তারা। জসুয়া কিমিখের কর্নারে একেবারে গোলমুখে হেডে গোলটি করেন পাভলোভিচ।

এরপর আবারও গোল করে রিয়াল মাদ্রিদ। ডি-বক্সের বাইরে ব্রাহিম দিয়াস ফাউলের শিকার হলে ফ্রি কিক পায় রিয়াল এবং অসাধারণ বাঁকানো শটে রক্ষণ দেয়ালের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন গিলের। নয়ার ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও আটকাতে পারেননি।

৩৮তম মিনিটে উপামেকানোর পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে কোনাকুনি শটে মৌসুমে গোলের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কেইন।

তিন মিনিট পর ভিনিসিয়াস জুনিয়রের দারুণ শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও, বাধা পায় ক্রসবারে। অবশ্য পরের মিনিটেই দলকে আবার এগিয়ে নেন এমবাপে। ব্রাজিলিয়ান তারকার পাস ডি-বক্সে পেয়ে প্লেসিং শটে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ সমতা টানেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এমবাপের গোল হলো সর্বোচ্চ ১৫টি, মৌসুমে সব মিলিয়ে ৩৯ ম্যাচে ৪০টি।

নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট বাকি থাকতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় রিয়াল। ৬৮তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াসের বদলি নামার ১০ মিনিটের মাথায় প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন কামাভিঙ্গা। আর আট মিনিট পর কেইনকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ফরাসি মিডফিল্ডার।

৮৯তম মিনিটে দিয়াসের জোরাল শটে বল একজনের পা ছুঁয়ে একটু দিক পাল্টে জালে জড়ায়, দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। আর চার মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে ওলিসের গোলে রেকর্ড ১৫ বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শিরোপাধারী পিএসজির মুখোমুখি হবে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। 

রাতের অপর ম্যাচে ঘরের মাঠে স্পোর্টিংয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে আর্সেনাল। প্রথম লেগে এক গোলের জয়ে তারা পৌঁছায় সেমিফাইনালে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ আতলেটিকো মাদ্রিদ। 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত