২৩ আগস্ট, ২০২২ ১৩:১১
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে বাগান পঞ্চায়েত নেতাদের বৈঠকে বসেছেন চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। এদিকে ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন সাধারণ চা শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলট গলফ ক্লাবে সিলেট ভ্যালির ২৩ বাগানের পঞ্চায়েত নেতাদের সাথে বৈঠকে বসেন শ্রমিক ইউনিয়ন নেতারা। এসময় গলফ ক্লাবের বাইরে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় বিভিন্ন বাগান থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা এসে জড়ো হন এখানে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে এনিয়ে অসন্তোষ ও ভুলবুঝাবুঝি আছে। তাই সবাই মিলে একটি সিদ্ধান্তে পৌছতে আমরা বাগাত পঞ্চায়েতদের সাথে বসেছি।
এরআগে রোববার রাতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সাথে চা শ্রমিক নেতাদের বৈঠকে হয়। এই বৈঠকে জানানো হয়, অচীরের প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক নেতাদের সাথে বসে তাদের মজুরি নির্ধারণ করে দেবেন এবং দাবি দাওয়া পুরণে পদক্ষেপ নেবেন। এই আশ্বাসের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে পূর্বের ১২০ টাকা মজুরিতেই কাজে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানান চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।
তবে নেতাদের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ দেখা দেয় সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে। সোমবার কাজে যোড়গ দেননি সিলেটের বেশিরভাগ বাগানের শ্রমিকরা। মঙ্গলবারও তারা ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার গলফ ক্লাবের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মালনীছড়া চা বাগানের শ্রমিক রতন হাজরা বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। হয় দাবি পুরণ অথবা প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি আশ্বাস- এর বাইরে অন্য কারো আশ্বাসে আমরা কাজে ফিরবো না।
তিনি বলেন, নেতাদের কথা আমরা বিশ্বাস করি না। তারা আমাদের সাথে প্রতারণা করছে।
দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় উন্নীতের দাবিতে চলতি মাসের শুরু থেকেই আন্দোলনে নামেন দেশের ১৬৬ চা বাগানে দেড় লক্ষাধিক শ্রমিক। ১৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন তারা। প্রশাসনের সাথে বৈঠকের পর শ্রমিকদের সংহগঠন চা শ্রমিাক ইউনিয়ন ধর্মঘট প্রত্যাহারে দুই দফা ঘোষণা দিলেও সাধারণ শ্রমিকরা তা না মেনে ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন।
আপনার মন্তব্য