নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ আগস্ট, ২০২২ ২৩:০২

সিলেটে ঘুরতে এসে বান্ধবীর সহায়তায় দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণী

ময়মনসিংহের তরুণী (২৩)। বান্ধবীর আমন্ত্রণে সিলেটে ঘুরতে আসেন। এখানে ঘোরার বদলে মুখোমুখি হন বিভীষিকাময় পরিস্থিতির। তাকে (তরুণী) তিন দিন বাসায় আটকে রেখে দুই দফায় দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন ৭ জন। আর ধর্ষকদের এতে সহায়তা করেছেন ওই তরুণীকে সিলেটে আসার আমন্ত্রণকারী বান্ধবী। ওই বান্ধবীর নাম জুলেখা (জুলী)।

গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত সিলেট শহরতলীর নাজিরেরগাঁওয়ের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আজ মঙ্গলবার সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় মামলা রুজু হয়।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছেন- ধর্ষণে সহায়তাকরী বান্ধবী জুলেখা ওরফে জুলি(১৯), জুবায়ের হোসেন (২৮) ও জয়নাল মিয়াকে (৪০)।

গ্রেপ্তারকৃতদের একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য দুজনের ১ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, ‘ফেসবুকে জুলেখার সঙ্গে পরিচয়, বন্ধুত্ব হয় ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর। স্বামী পরিত্যক্তা ওই তরুণীর বাড়ি ময়মনসিংহে। তিনি ঢাকার আজিমপুরে থাকেন। বান্ধবীর আমন্ত্রণে সিলেটে আসেন। এরপর আমন্ত্রণকারী বান্ধবীর সহযোগিতায় ধর্ষণের শিকার হন।

‘শুক্রবার রাত ৯টা থেকে রোববার দিবাগত রাত প্রায় ৩টা পর্যন্ত নাজিরেরগাঁওয়ের জুবায়ের হোসেনের স্ত্রী জুলেখার ঘরে ভুক্তভোগীকে আটকে রাখা হয়। শনিবার রাতে ও রোববার রাতে দুই দফায় ৭ জন ওই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এর সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেন জুলেখা।’

এ ঘটনায় মহানগর পুলিশের (এসএমপি) উপ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, ‘ভুক্তভোগীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়াদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

‘এর মধ্যে জুবায়ের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি দুজনের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত