২৩ আগস্ট, ২০২২ ২৩:১৯
সার ও জ্বালানি তেলের দাম এবং শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার আমন চাষিরা দুশ্চিন্তায় পরেছেন।
মঙ্গলবার (২৩ আগষ্ট) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাড়তি খরচ জোগাড় করতে অনেকেই ঋণের ফাঁদে জড়িয়ে পরছেন অনেকের। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র কৃষকরা। ফসল বিক্রি করে উৎপাদন খচর তুলতে পারবেন কিনা এমন চিন্তা তাদের। এসব কারণে আমনের আবাদ কমছে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক সাথে কথা বললে তারা জানান, বীজতলা তৈরি ও পরবর্তী সময়ে চারা রোপণের জন্য পাওয়ার টিলারের মাধ্যমে চাষ দিতে হয়। ডিজেলের দাম বেড়েছে লিটারে প্রায় ৪২.৫ শতাংশ। ইউরিয়া সারের দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ডিজেলের দাম বাড়ায় পাওয়ার টিলারের খরচ বেড়ে গেছে আমরা কৃষক বিপাকে আছি, চলতি আমন মৌসুম থেকেই এ বাড়তি বোঝা টানতে হবে কৃষকদের।
৩নং মিরপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক লিটন পাল ও আবুল কালাম বলেন, গত ১০ আগস্ট রোপণ শুরু করলাম। আগে ১ একর জমি চাষ করতে পাওয়ার টিলারের খরচ হতো ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা। ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে এখন হয় ৪৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা। ইউরিয়া সার বাবদ খরচ হতো ১২০০ টাকা। বৃদ্ধিপ্রাপ্ত দামে এখন হয় ২২৫০ টাকা। সরকার ২২ টাকা সারের কেজি করলেও আমাদের কিনতে হয় ৩০ টাকা দরে। শ্রমিকের মজুরি ৫০০ টাকা থেকে ৬৫০ টাকা বাড়ছে। গত বছর ৪ একর জমিতে আমন চাষ করছি। এবার শুধু খোরাকির জন্য ২ একরে চাষ করবো। আমাগো ধানের দাম বাড়ছে না। গেরস্তি (হালচাষ) আর করমু না। গরু পালমু, আর ভাত খাইমু।
কলকলি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মোঃ মজিদ বলেন, এবার ৫ একর জমি আমন আবাদের চিন্তা করছিলাম। কিন্তু বর্তমানে তা সম্ভব হবে না। কারণ কিছু নিচু জমি চইতে (চাষ করা) পারলেও পানির অভাবে বেশি পরিমাণ জমি চইতে পারিনি। মঙ্গলবার অতি জোঁয়ারে আবার ডুবাইয়া গেছে। যতটুকু ধান ১ বছরের খোরাকির জন্য লাগবো তা চাষ করবো। বাকি জমি একশনা লাগিয়ে ফেলবো।
৭নং সৈয়দপুর ইউনিয়নের তেগরীয়া গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান,আলফাজ উদ্দিন বলেন, তেল, সার, শ্রমিকের মজুরি সবই বাড়ছে। শুধু বাড়ছে না কৃষকদের পণ্যের দাম। আগে ৬ একর জমিতে আমন চাষ করছি। শুধু খোরাকির জন্য এবছর আড়াই একর জমিতে আমন চাষ করবো। এখন চাষাবাদ ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আমাদের আর উপায় নাই।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে আমন মৌসুমে উপজেলায় ৯ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করছেন কৃষকরা। বৃষ্টিপাত কম হওয়াতে সেচ দিয়ে পানি দিচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত উসমান মজুমদার বলেন, সার ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে খুব বেশি ক্ষতি হবে না কৃষকদের। আমরা উচ্চফলনশীল ধান উৎপাদনে উৎসাহিত করছি। এতে কৃষকরা যে সামান্য ক্ষতির মুখোমুখি হতো,তা কাটিয়ে উঠতে পারবে তারা। সে অনুসারে আমন চাষ দেরিতে হয়েছে বলা যায় না। সারের পরিমিত ব্যবহার এবং সেচয়ের পানি সুস্থ প্রয়োগ বিষয়ে কৃষকদের সচেতনা বৃদ্ধির জন্য মাঠ পর্যায়ে আমরা কাজ করছি। এতে অতিরিক্ত সার ও সেচের প্রয়োজনীয় বাড়তি খরচ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
আপনার মন্তব্য