২৫ আগস্ট, ২০২২ ০২:২০
বড়লেখায় দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে অনড় উপজেলার ১৮টি চা বাগানের শ্রমিকরা। কর্মবিরতির ১২ তম দিন বুধবার দুপুরে দুইটি স্থানে প্রায় ১৫ হাজার চা শ্রমিক কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়ক দুইঘণ্টা অবরোধ করে রেখেছে।
অপরদিকে কেরামতনগর ও লক্ষীছড়া চা বাগানের শ্রমিকরা উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের সড়ক অবরোধ করে। এ সময় সড়কের উভয় পাশে কয়েকশ গাড়ি আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন তাদের দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়ে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়।
সরেজমিনে জানা গেছে, বাংলাদেশ টি বোর্ডের মালিকানাধীন নিউ সমনবাগ, পাথারিয়া, মোকাম ও ব্যক্তি মালিকানাধীন রশিদাবাদ চা বাগানের প্রায় ১২ হাজার চা শ্রমিক নিজেদের বাগান থেকে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে উপজেলার দক্ষিণভাগ বাজারে যায়। সেখানে কুলাউড়া-চান্দগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণভাগ হাইস্কুল রোডে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে।
অপরদিকে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কেরামতনগর ও লক্ষীছড়া চা বাগানের শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে। এ সময় রাস্তার উভয় পাশে কয়েকশ ভারি ও হালকা যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র জটের সৃষ্টি হয়। সড়কের ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান নেয়ার পর উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা দাবি যৌক্তিক জানিয়ে তা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বিক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা জানান, ৩০০ টাকা মজুরির ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের মা। অবশ্যই তিনি তাদের দাবি মেনে নিয়ে দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির ঘোষণা দিবেন।
ছাত্রলীগ নেতা মাছুম আহমদ আজিজের সঞ্চালনায় অবরোধ সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, ইউএনও খন্দকার মুদাচ্ছির বিন আলী, থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান আজির উদ্দিন, থানার এসআই হাবিবুর রহমান, সমনবাগ চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কন্দ মুণ্ডা, সাধারণ সম্পাদক কালি প্রসাদ, পাথারিয়া চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি মোহন লাল রিকমুন, সম্পাদক জয় বোনার্জি, শ্রমিক নেতা লতিকা রিকমুন, অজিত রবি দাস, সজল তাঁতী, রিতা মুণ্ডা, নারায়ণ কালোয়ার, রাঙা সাওতাল প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য