মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

২৮ আগস্ট, ২০২২ ১১:০৬

কর্মক্ষেত্রে ফিরতে পারায় খুশি মৌলভীবাজারে চা শ্রমিকরা

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চা বাগান মালিকদের দীর্ঘ আলোচনার পর চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মজুরি বাড়ার পর ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে কাজে যোগ দিয়েছেন মৌলভীবাজারের চা শ্রমিকরা।

রোববার (২৮ আগস্ট) সকালে ঘর থেকে বেরিয়ে দলে দলে শ্রমিকরা বাগানে আসেন এবং পাতা উত্তোলনের কাজ শুরু করেন। টানা ১৯ দিন পর তারা কর্মক্ষেত্রে ফিরে কাজ করতে পারায় প্রত্যেকের চোখে-মুখে আনন্দের অনুভূতি দেখা যায়।

তবে কিছু বাগান বন্ধ থাকায় একদিন পর সোমবার (২৯ আগস্ট) থেকে এসব বাগানে কাজ শুরু হবে। ১৭০ টাকা মজুরি করায় শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এর আগে শনিবার (২৭ আগস্ট) শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসেন চা বাগান মালিকরা। দীর্ঘ আলোচনার পর চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করে শ্রমিকদের কাজে যোগদানের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বাংলাদেশ শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘ আমরা আগেই বলেছিলাম প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত দিবেন আমরা তা মেনে নিব। আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে মেনে নিয়েছি। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী মালিকদের সঙ্গে বসে মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করেছেন। তাই আমরা আজ থেকেই কাজে নেমেছি। তবে শ্রম আইনের সংশোধন ও জমিজমা সংক্রান্ত আরও বেশ কিছু দাবিদাওয়া বাস্তবায়ন চাই আমরা।’

ভাড়াউড়া চা-বাগানের শ্রমিক দুলাল হাজরা বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমরা তা-ই মেনে নিয়েছি। আমরা এখন বাগানের জন্য কাজ করব। যদিও ১৭০ টাকায় আমাদের এই সময়ে চলাফেরা কষ্ট হবে। তবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাই আমরা কাজে নেমেছি।

ফিনলে চা কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোহাম্মদ শিবলী বলেন, আমাদের চা বাগানের শ্রমিকরা সবাই কাজে নেমেছেন। সবাই কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী চা-শ্রমিকরা নতুন মজুরি ১৭০ টাকা পাবেন। এ ছাড়া অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী তাদের পেছনে বাগানের দৈনিক ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হবে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘চা শ্রমিকরা চেয়েছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখের দিকে। তিনি মজুরি ঘোষণা করেছেন শ্রমিকরা মেনে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মানসম্মত মজুরি নির্ধারণ করে দিয়েছেন এ জন্য তাঁর প্রতি আমরা চির কৃতজ্ঞ।’

প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট থেকে দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি এবং পরে ১৩ আগস্ট অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন চা শ্রমিকরা।শ্রমিকদের টানা ধর্মঘটে স্থবির চা শিল্প। প্রশাসন থেকে শুরু করে চা শ্রমিক সংগঠনের নেতারা কয়েক দফায় চেষ্টা করেও শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে পারেননি।শ্রমিকদের সাফ কথা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা ছাড়া তারা কাজে ফিরবেন না।এরপরই চা শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে তাদের মালিকদের সঙ্গে বসে আলোচনার ঘোষণা আসে প্রধানমন্ত্রীর। আজ বাগান মালিকদের সঙ্গে বসে নতুন মজুরি নির্ধারণ করে দেন সরকারপ্রধান। টানা ১৯ দিন পর সিলেট জেলার ২৪টি, হবিগঞ্জে ২৪টি এবং মৌলভীবাজারের ৯৩টি চা বাগানের শ্রমিকরা তাদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত