রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর

০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১২:১০

আজ রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস

আজ পহেলা সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস। এটি জগন্নাথপুরের দ্বিতীয় গণহত্যা। এর আগের দিন অর্থাৎ ৩১ আগস্ট উপজেলার শ্রীরামসি গ্রামে আরেকটি বর্বরোচিত গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। এ দুই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ঘটনা আজও ভুলতে পারেননি স্থানীয়রা। প্রতিবছরেই দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।

১৯৭১ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর স্থানীয় দোসরদের সহযোগিতায় প্রাচীনতম নৌ বন্দর হিসেবে খ্যাত কুশিয়ারা নদীর তীরে অবস্থিত রানীগঞ্জ বাজারে গণহত্যা চালায়। কুশিয়ারা নদীর স্রোতে ভেসে যায় লাশ আর লাশ। নদীর পানি রক্ত গঙ্গায় পরিণত হয়। নিরীহ মানুষজনকে হত্যার পর পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় পুরো রানীগঞ্জ বাজার।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের এই দিনে শান্তি কমিটি গঠনের কথা বলে স্থানীয় রাজাকাররা বাজার ব্যবসায়ী, বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা লোকজন, বড় বড় নৌকার মাঝিসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের বাজারের একটি বড় দোকানে জমায়েত করে। সেদিন সেখানে প্রায় দুই শতাধিক মানুষকে জড়ো করে কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই সকলকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। পরে তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় কুশিয়ারা নদীর তীরে। সেখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে পেছন দিক থেকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। ইতিহাসের বর্বর এই নারকীয় তাণ্ডবে প্রায় দুই শতাধিক লোক শহিদ হলেও হত্যাযজ্ঞের পর ৩৪ জনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়। অন্যদের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। বর্বরোচিত এ হত্যাকাণ্ড এখনো কাঁদায় রানীগঞ্জবাসীকে।

রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবসে প্রশাসনের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। তবে, স্বাধীনতার ৫০ বছরেও রানীগঞ্জের শহিদদের স্মরণে কোন স্মৃতি পরিষদ গঠন করা হয়নি।

শহিদ গাজী ফাউন্ডেশন নামে একটি সামাজিক সংগঠন ২০০৩ সাল থেকে প্রতি বছর রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে আসছে। এবারও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষে থেকে জানানো হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত