১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৯:৫৮
বাংলাদেশ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এর নিম্নতম মজুরী শাখা কর্তৃক প্রকাশিত গেজেটে চা বাগান শিল্প সেক্টরে চা শিল্পের শ্রমিকদের শতকরা ৫ শতাংশ মজুরী প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন।
মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এর হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) নিপেন পাল। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি পংকজ কন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা, কোষাধ্যক্ষ পরেশ কালিন্দী প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে নিপেন পাল বলেন, ‘বাংলাদেশের মূল বাগান ও ফাঁড়ি বাগানসহ মোট ২৩০টি চা বাগান রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০২.৯২ কোটি কেজি চা উৎপাদিত হচ্ছে। চায়ের উৎপাদন বাড়লেও কর্মরত স্থায়ী ও ক্যাজুয়েল শ্রমিকদের সংখ্যা খুব একটা বাড়েনি, শ্রমিকদের মজুরী ও অনন্যা সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি হয়নি। চা শ্রমিকদের মজুরী নির্ধারণের অব্যাহত ধারা ইংরেজ শাসনামলের পর মালিক পক্ষের সংগঠন বিটিএ (বাংলাদেশীয় চা সংসদ) এবং বিসিএসইউ (বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন) একটি দ্বি-পাক্ষিক শ্রম চুক্তির মধ্য দিয়ে দাবীনামা উত্থাপন ও আলোচনা শেষ হওয়ার সময় পর্যন্ত শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরী যত বকেয়া পাওনা হয়, তাহা ২ থেকে ৩ কিস্তিতে সমভাবে শ্রমিকদের পরিশোধ করা হয়। কিন্তু শ্রম আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তফসিল (ঘ) বর্ণিত মজুরী বোর্ডের প্রকাশিত গেজেটে ৫নং এর (ক) উপধারায় উৎসব ভাতা ৪৭ দিনের সুপারিশ করা হয়েছে। অথচ আমরা জানি শ্রম বিধিমালা ১১১(৫) ধারা অনুযায়ী ৬০ দিনের মূল মজুরী সমান ২ উৎসবে দেওয়া হবে। চা শ্রমিকদের বর্তমান মূল মজুরী হলো ১৭০ টাকা, সেই হিসেবে বিধিমালায় বর্ণিত ৬০ দিনের মজুরীর চা শ্রমিক উৎসব ভাতা হিসেবে পাবে। তাও আবার কাজের দিন হিসাব করে বেশ কম করা হয়।
নিপেন পাল আরও বলেন, বাংলাদেশ গেজেট প্রকাশিত এর তফসিল (ঙ) শর্তাবলী (৭) এর প্রকাশিত যা চা শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে ও মালিকের স্বার্থ রক্ষার্থে মালিকপক্ষের সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশীয় চা সংসদ এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন এর দ্বি-বার্ষিক, দ্বি-পাক্ষিক শ্রমচুক্তিতে শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধা উৎপাদনশীলতা প্রভৃতি বিষয়ে সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা বলা আছে, কিন্তু মজুরী নির্ধারণের বিষয়ে কিছু বলা নেই অর্থাৎ শ্রমিকদের মজুরী নির্ধারণের শ্রমচুক্তিকে খর্ব করা হয়েছে। যা চা শিল্পের জন্য অশনি সংকেত বলে চা শ্রমিকরা মনে করছেন। উপরোক্ত মতামতের ভিত্তিতে এই মজুরী বোর্ডের প্রকাশিত গেজেট গ্রহণযোগ্য নয় বলে আমরা মনে করি।
তিনি বলেন, নিম্নতম মজুরী বোর্ড গেজেট প্রকাশ করার পর আমরা এর প্রতিবাদ করি, গেজেট প্রত্যাখ্যান করি। কারণ বিগত সরকারের এই প্রকাশিত মজুরী বৈষম্য গেজেট চা শ্রমিক বান্ধব হয়নি। কিন্তু মালিকপক্ষের চাপে আমাদের দাবী মানা হয়নি। সরকার কোন পদক্ষেপ নেয়নি৷ এখন দেশে নতুন একটি সরকার এসেছেন। আমরা সরকারের কাছে দাবী জানাই, যেন চা শ্রমিকদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। চা বাগান মালিক ও চা শ্রমিক দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করেই যেন গেজেট প্রকাশ করা হয়।
আপনার মন্তব্য