রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ০০:০৬

জগন্নাথপুরে ভয়াবহ বিদ্যুৎ লোডশেডিং, নিরসনে স্মারকলিপি

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলাজুড়ে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। অসহনীয় গরমের মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন জগন্নাথপুরবাসী।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জগন্নাথপুরের সামাজিক সংগঠন স্টুডেন্টস কেয়ার জগন্নাথপুর’-এর পক্ষে লোডশেডিং বন্ধের দাবিতে একটি স্মারকলিপি স্থানীয় উপজেলা বিদ্যুৎ প্রকৌশলীর নিকট দেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত কয়েকদিন ধরে জগন্নাথপুরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুতের লোডশেডিং চলছে। দুঃসহ গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছিল মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট। এতে করে লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদ আর ক্ষোভের ঝড় বইছে।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতিকালে প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলায় দিবারাত্রি বিদ্যুতের লোডশেডিং করা হচ্ছে।  এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে পরের দেড় ঘণ্টা বিদ্যুতের দেখা মিলে না। আবার কোন কোন সময় টানা দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। দিনে রাতে সমানতালে চলছে বিদ্যুতের আসা যাওয়ার পালা। ফলে পানির মটর, ফ্রিজ, এসি, ফ্যানসহ ইলেকট্রনিক সামগ্রীর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

শহরের গৃহিণী স্বর্ণা বেগম জানান, তীব্র গরমের সঙ্গে অসহনীয় বিদ্যুৎ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি আমরা। মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুতের ভেল্কিবাজিতে পানির মটর চালানো কষ্টকর হয়ে উঠেছে। ফ্রিজে থাকা জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। বাচ্চাদের লেখাপড়া ব্যাহত হয়। বিদ্যুতের ভোগান্তির কারণে খুবই কষ্টে আছি।

উপজেলার মুরাদাবাদ গ্রামের বাসিন্দা শাহিনুর মাহমুদ বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। একদিকে গরম অন্যদিকে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক লোডশেডিংয়ে দুর্বিষহ উঠেছে জীবন।

স্টুডেন্টস কেয়ার জগন্নাথপুরের আমিনুর রহমান হিমেল জানান, বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জগন্নাথপুরবাসীর ন্যায্য দাবী আদায়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জগন্নাথপুর উপজেলা আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম আজাদ জানান, জাতীয়ভাবে বিদ্যুৎ ঘাটতে থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। আমাদের জগন্নাথপুরে গড়ে দিনে বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ৭ মেগাওয়াট। বরাদ্দ পাওয়া গেছে সাড়ে ৫ মেগাওয়াট। ঘাটতে আড়াই মেগাওয়াট। এরমধ্যে গত দুইদিনে গড়ে ৩ মেগাওয়াট ছিল। অপরদিকে রাতে বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ৯ মেগাওয়াট। কিন্তু বরাদ্দ আছে সাড়ে ৪ মেগাওয়াট। ঘাটতি সাড়ে ৫ মেগাওয়াট। আমরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার বিষয়টি অবহিত করে আসছি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত