১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১০:৫৪
অস্থির হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের সবজির বাজার। বাজারে বেশিরভাগ সবজি কিনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। বৃষ্টির কারণে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে প্রতিটি সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ, আলু, পেঁয়াজ ও বেগুনসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি। এর মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে দাম বেড়েছে কাঁচামরিচের। তবে স্থিতিশীল রয়েছে মাংসের বাজার। কিছুটা কমেছে ডিমের দাম।
বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি। যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা কেজি। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগে এই কাঁচা মরিচ ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি। পাইকারি বাজারের ১১০ টাকার বেগুন খুচরা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা, ৭০ টাকার বরবটি ১০০ টাকা, ৫০ টাকার কাঁচকলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ৪৫ টাকার ঢেঁড়স ৬০ টাকা, ৩৫ টাকার পেঁপে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি।
এছাড়া পাইকারি বাজারে আলু ৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৯৫ টাকা, রসুন ২০০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, কচুর মুখী ৭০ টাকা, সজনে ডাটা ১৪০ টাকা, পটল ১৮ থেকে ২০ টাকা, ওল ৯০ থেকে ১০০ টাকা, দেশি উচ্ছে ৯০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, ক্ষিরা ৮০ টাকা, ধুন্দুল ২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি তরকারি কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। এতে করে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। সবজি ক্রয়ক্ষমতার বাইরে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
তবে বাজারে স্থিতিশীল রয়েছে মাংসের দাম। সোনালি মুরগি ৩০০ টাকায়, ব্রয়লার ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়, গরুর মাংস ৭৫০ টাকায়, লাল ডিম প্রতি পিস ১২ টাকায় ও সাদা ডিম প্রতি পিস ১১ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি মুরগির ডিম ১৫ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতারা বলছেন, বাজারে সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া। কোনোভাবেই নির্দিষ্ট আয়ে জীবনযাপন সম্ভব হচ্ছে না।
সৈয়দপুর বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সালাম বলেন, বাজারে প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়েছে। আমরা সীমিত আয়ের মানুষ। কিন্তু এখন বাজার করলে আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি খরচ হচ্ছে। ধরতে গেলে ১০০ টাকার নিচে বাজারে কোনো ভালো সবজি নেই। এছাড়া মাছ-মাংস কেনার সাহস করতে পারি না। ডাল, আলু ভর্তা খেতে গেলে এখন অনেক খরচ। খুচরা বাজারে এক কেজি আলুর দাম ৬০ টাকা। পরিবার নিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছি।
আরেক ক্রেতা রাজ্জাক বলেন, বাজারে এলে বোঝা যাবে মানুষ কেমন আছে। বাজারে জিনিসপত্রের দামের কী অবস্থা সেটা তো আপনারাও দেখছেন। এভাবে মানুষ চলতে পারে না। ছোট চাকরি করি। জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও আমাদের আয় তো বাড়েনি। ১০০ গ্রাম কাঁচামরিচ কিনতে হচ্ছে ৩০ টাকায়।
এদিকে বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারের আড়তে প্রতিটি সবজির দাম বেড়েছে। তাই তাদেরও বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
সৈয়দপুর বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা আমিরুল ইসলাম বলেন, বাজারে সরবরাহ কমের কারণে প্রতিটি সবজির দাম বেশি। পাইকারি বাজার থেকে আমরা যে দামে কিনি তার চেয়ে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করি। আমাদেরও তো সংসার আছে। তিনজন লোক সারাদিন খেটে যদি কিছু আয় করতে না পারি তাহলে সংসার চলবে কিভাবে?
জগন্নাথপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মশাহিদ মিয়া ভূঁইয়া বলেন, অল্প কিছু সবজি আসছে বাজারে।সরবরাহ কম থাকায় দামও বেড়েছে। এখানে বাজারের আড়তদার বা ব্যবসায়ীদের কোনো কারসাজি নেই। নতুন করে যখন আবার ফসল উঠতে শুরু করবে তখন ফের সবজির দাম কমে আসবে।
আপনার মন্তব্য