২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ২৩:৪৯
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, বৈষম্যের শিকার শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনে সুপরিবেশ ফেরাতে হবে। পতিত স্বৈরাচার দোসরদের শিক্ষা প্রশাসন থেকে অপসারণ প্রয়োজন। কারণ তাদের হাতে ছাত্রদের তাজা দগদগে রক্ত লেগে আছে। এদের দ্বারা ইনসাফ ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে যে নৈরাজ্য চলছে তার প্রতিফলন ঘটছে সমাজে। শিক্ষা ক্ষেত্রে অতীতের নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে।
শনিবার বিকেলে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে সিলেট বিভাগের চার জেলার শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠনের শিক্ষক নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, পতিত স্বৈরাচার সরকারের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের লাগামহীন দৌরাত্ম্যে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়। দলীয়করণ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুই ধ্বংস করেছে। অনেক শিক্ষকমণ্ডলী নজিরবিহীন বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। যার ফলশ্রুতিতে শিক্ষাঙ্গন থেকে প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল। যা পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে খুনি হাসিনা সরকারের পতন। সমাজের অগ্রসর ভাগ হচ্ছেন শিক্ষক মণ্ডলী, তাদের অবমূল্যায়ন করলে জাতি মেধাবী তৈরিতে পিছিয়ে পড়বে। যে আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছাত্র জনতা রক্ত ঢেলে দিয়েছে, তার প্রতিফলন শিক্ষা কার্যক্রমে দেখাতে হবে। এখন পর্যন্ত খুনি হাসিনা সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত লোকজন শিক্ষা প্রশাসনের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের দৌরাত্ম্যে দেড় যুগের নিগৃহীত শিক্ষকরা এখনো বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। এই বঞ্চনা থেকে বেরিয়ে আসতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিন তরফদার এর সভাপতিত্বে লেফটেন্যান্ট মনির আহমেদের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেছেন, ছাত্রলীগ প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তাদের সাথে কিছু শিক্ষকরাও যুক্ত ছিলেন। যে কারণে ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। এটি এখন কেটে গেছে। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। অতীতের মতো শিক্ষার্থীদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ করতে হবে। তবেই আমরা একটি সুশিক্ষিত জাতি পাব।
এসময় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, অধ্যক্ষ মো. জিল্লুর রহমান শোয়েব, সহকারী অধ্যাপক নূরুল ইসলাম আলমগীর, প্রভাষক বায়েছ আহমদ, আজিজ আহমদ, জুবায়ের আহমদ জুবের, মাওলানা রওনক আহমদ, আং জলিল, রফিকুল মোরসালীন বাবর প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য