১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০০:৩৯
মুজিবুর রহমান, মহসিন মিয়া মধু। ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজার-৪ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। চা বাগান অধ্যুষিত এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের আধিপত্য থাকলেও এবার তারা নির্বাচনের মাঠে না থাকায় রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। ফলে বাগানঘেরা জনপদের চা শ্রমিকদের ভোটব্যাংক কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে বাঁধা নেই। জয় নিশ্চিত করতে তাই সব প্রার্থীর দৃষ্টি এখন এই ভোটারদের দিকেই।
স্থানীয়দের মতে, এবারের ভোটযুদ্ধ হবে হাড্ডাহাড্ডি। তবে বাড়তি চাপে পড়েছেন বিএনপির দলীয় প্রার্থী। একই আসনে দলের দুই প্রভাবশালী নেতার মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে বিভেদ এবং দলীয় প্রার্থীর বিপরীতে জনপ্রিয় এক নেতার স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামা বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমানকে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে আছেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার পাঁচ বারের মেয়র, জেলা বিএনপির সদস্য মহসিন মিয়া মধু। তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, স্থানীয় নেতা এবং জনপ্রিয়তার কারণে তিনি বিএনপি প্রার্থীর সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী।
এ আসন থেকে আরও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাশ, জামায়াতে ইসলামীর নেতা আব্দুর রব এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা নূরে আলম হামিদী। তাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। দলের একটি সূত্র বলছে, ভোট কাটাকাটির হিসাবে এই আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর জন্য লড়াইটা বেশ কঠিন হবে।
স্থানীয় নেতা মহসিন মিয়া মধু ও মুজিবুর রহমানের মধ্যে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস এরই মধ্যে এই আসনের আওতাধীন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। দুই নেতার অনুসারীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সামর্থ্য দিয়ে নিজ নেতার প্রচারে ব্যস্ত। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেখা যায়, সাধারণ মানুষ ও চা শ্রমিকদের মন জয় করার ওপর মির্ভর করছে প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের হিসাবনিকাশ।
সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং গরিব-অসহায় মানুষের জন্য কাজ করার মধ্য দিয়ে এরই মধ্যে স্থানীয়দের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করছেন বিএনপি প্রার্থী মুজিবুর রহমান। তাঁর ফাউন্ডেশন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার কাজ তাঁকে স্থানীয় মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় করেছে।
অন্যদিকে তৃণমূল থেকে বর্তমান অবস্থায় উঠে আসা দলটির স্থানীয় নেতা মধু বরাবরই এলাকার মানুষের নাগালে অবস্থান করেন। আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের সান্নিধ্যে থাকা মধু মিয়া বিশেষ কারণেই সবার নজরে রয়েছেন। তবে এই দুই প্রার্থীর কারণে দলের মধ্যে সৃষ্ট বিভেদ এবং একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনী কৌশল হিসেবে সমালোচনামূলক কথাবার্তা ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
মহসিন মিয়া মধু এ আসন থেকে বাজিমাত করতে পারেন। এর পক্ষে বেশ কিছু শক্তিশালী যুক্তি রয়েছে। তিনি শ্রীমঙ্গল পৌরসভার পাঁচবার নির্বাচিত মেয়র হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তবে পতনঊষার গ্রামের বিএনপি সমর্থক ফটিকুল ইসলাম জানান, বিএনপি ঘরানার নেতাকর্মীদের বিভেদ দিন দিন কমে আসছে। তাঁদের ভোাট বিএনপির বাক্সেই পড়বে।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লাম কিবরিয়া শফি জানান, বিএনপির মুজিব এখন পর্যন্ত উপজেলা বিএনপির নেতাদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেননি। মনেপ্রাণে বিএনপির রাজনীতি করেন যারা তারা দলীয় প্রতীকে ভোট দেবেন। প্রার্থীকে আরও জনসম্পৃক্ত হতে হবে।
বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত মহসিন মিয়া মধু বলেন, দলীয় প্রার্থী কোনো কারণে বিজয়ী হতে না পারলেও বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী একজন হিসেবে এই আসন তিনি ধরে রাখতেই স্বতন্ত্র নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আপনার মন্তব্য