১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:২৮
সিলেটের একটি ইউনিয়নে ১১ দিনের ব্যবধানে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এমনটি ঘটেছে ওসমানীনগর উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নে।
এই ইউনিয়ের সাবেক ইউপি সদস্য আতিক মেম্বার নিহতের ঘটনার ১১দিনের ব্যবধানে দু’পক্ষের সংঘর্ষে শাজাহান মিয়া সৌরভ (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার রাতে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৌরভ মারা যান। নিহত সৌরভ উপজেলার বুরুঙ্গা ইউপির উত্তর তিলাপাড়া গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে তিন নারীকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে ওসমানীনগর থানা পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন, উপজেলার বুরুঙ্গা ইউপির উত্তর তিলাপাড়া গ্রামের সুহেল মিয়ার স্ত্রী সুমনা(৩২), রুহেল মিয়ার স্ত্রী মারিয়া(২৪) ও শিপন মিয়ার স্ত্রী জেলী বেগম(৩০)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানা যায়, উপজেলার উত্তর তিলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বারিক উদ্দিন ও আব্দুল আজিজের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। প্রায় দুই বছর আগে উত্তর তিলাপাড়া জামে মসজিদের ভূমি নিয়ে বিরোধ আরও তীব্র হয়। সম্প্রতি একটি জিপগাড়ি চলাচলকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ত্রা ও উত্তেজনা দেখা দেয়। এসব ঘটনা সহ বিভিন্ন ঘটনায় উভয় পক্ষ আদালতে পৃথক মামলাও রয়েছে। গত শনিবার বিকেলে শাজাহান মিয়া সৌরভ সিলেট শহর থেকে বাড়িতে ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। সংঘর্ষ চলাকালে সৌরভের গলার শ্বাসনালীতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন।
সৌরভকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে সৌরভ মারা যান। একই ঘটনায় শাকিল আহমদ নামে আরেকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওসমানীনগর থানার ওসি মুর্শেদুল আলম ভূইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের করা হয়নি। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ৩জনকে আটক করা হয়েছে।
ইউপি সদস্য নিহতের ঘটনায় দুই ভাই আটক
এদিকে, বুরুঙ্গা বাজার ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আতিক মিয়া হত্যা মামলায় দুই ভাইকে আটক করেছে র্যাব। রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকালে গ্রেপ্তারকৃতদের ওসমানীনগর থানা পুলিশ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
এরআগে গোপন তথ্যেরি ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানাধীন সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের খোয়াজপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, ওসমানীনগরের পশ্চিম সিরাজনগরের আতর মিয়ার পুত্র মিজান মিয়া (২৮) ও মঞ্জু মিয়া (৩৩)।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে এসব তথ্য জানায় র্যাব।
র্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তারকৃতরাসহ মামলার অন্য আসামীরা পলাতক ছিলো। গ্রেফতারকৃত মঞ্জু ও মিজান মামলার ৬ ও ৭নং আসামী। নিহত সাবেক মেম্বার সালিশ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ওসমানীনগরের পশ্চিম সিরাজনগরের সৈয়দ আব্দুল ওয়াহাবের সাথে তার আপন ভাই সৈয়দ আব্দুর রশিদ আখলিছ মিয়ার বসত ভিটার জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলছিলো। এ নিয়ে একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে। মামলা সংক্রান্ত জেরে ৩১ ডিসেম্বর বেলা আড়াইটার দিকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সৈয়দ আব্দুর রশিদ আখলিছ মিয়ার বসতঘরে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাংচুর ও ক্ষতি সাধন করে হামলাকারীরা।
পরবর্তীতে সৈয়দ আব্দুর রশিদ আখলিছ মিয়া উক্ত ঘটনার সালিশ বিচারের জন্য সাবেক মেম্বার আতিক মিয়ার কাছে গেলে তিনি বিষয়টি মীমাংসার জন্য আতর মিয়ার বাড়ির উঠানে একটি সালিশি বৈঠক আয়োজন করেন। সালিশি বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতে নিহত আততিক মিয়া বিবাদীগণকে অপরাধজনক কর্মকান্ড হতে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেন। অন্যথায় বিবাদীগণকে পুলিশে সোপর্দ করা হবে মর্মে সতর্ক করে বৈঠক শেষে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিরাজনগর চলে যান।
ওইদিন বিকালে নিহত আতিক মিয়া নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে আতর মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে রাস্তার উপর পৌঁছা মাত্রই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাকে দেশীয় অস্ত্রদিয়ে পিঠিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। আশপাশের লোকজন আতিক মিয়াকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিসৎক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ওসমানীনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আপনার মন্তব্য