মো: নাজমুল ইসলাম, বড়লেখা

১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:৪৪

নারী চা শ্রমিকদের হয়রানি ও বকেয়া বেতন ইস্যুতে অবরুদ্ধ ম্যানেজার-অডিট টিম

মৌলভীবাজারের বড়লেখায়

ছবি: সংগৃহীত ।

বেতন বন্ধ ও অডিট টিমের সদস্যদের আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় চা শ্রমিকদের মাঝে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রায় দেড় হাজার বিক্ষুব্ধ চা শ্রমিক বাগান ম্যানেজার ও অডিট টিমের সদস্যদের দুই ঘন্টা ধরে বাগান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বাংলাদেশ চা বোর্ড নিয়ন্ত্রিত বড়লেখা উপজেলার নিউ সমনবাগ চা বাগানে এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চা পাতা চয়ন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের গড় মজুরি পাওয়ার কথা থাকলেও বিগত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তাদের নিয়মিত সাপ্তাহিক বেতন বন্ধ রয়েছে। যেখানে প্রতি সপ্তাহে শ্রমিকদের ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এবার মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি চলমান বেতন ও বকেয়া এরিয়ার অর্থও দেওয়া হয়নি।

এর মধ্যেই গত ৫ জানুয়ারি চা শ্রমিকদের ডাটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে ৬ সদস্যের একটি অডিট টিম বাগানে তথ্য সংগ্রহে আসে। অভিযোগ রয়েছে, তথ্য সংগ্রহকালে নারী চা শ্রমিকদের সঙ্গে অশোভন ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। এতে শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে প্রায় দেড় হাজার চা শ্রমিক বাগানের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বাগান ম্যানেজার ও অডিট টিমের সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার গালিব চৌধুরী ও বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান খান। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এ সময় প্রশাসনের উপস্থিতিতে অডিট টিমের প্রধান ও বাংলাদেশ চা বোর্ডের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম নারী শ্রমিকদের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্যের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

চা শ্রমিক জুড়ী ভ্যালির সভাপতি শ্রীমতি বাউরী, শ্রমিক নেতা স্বরস্বতী সাওতাল, জানকি গড়াইত, হেমন্তি রবি দাস, স্বরস্বতী খানুসহ অন্যান্য শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, “আমরা মানবেতর জীবন যাপন করছি। সামনে সংক্রান্তি উৎসব, অথচ তিন সপ্তাহ ধরে বেতন ও এরিয়ার টাকা পাচ্ছি না। আমাদের ঘরবাড়ি জরাজীর্ণ, সংস্কার করা হচ্ছে না। চা চয়ন বন্ধকালীন গড় মজুরি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও এবার তা দেওয়া হয়নি। এর ওপর অডিট করতে এসে নারী শ্রমিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে। এতে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।”

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার গালিব চৌধুরী বলেন, “বাগান ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিকদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল। আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষের বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করা হয়েছে।”

অডিট টিমের প্রধান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “চা শ্রমিকদের ডাটাবেজ তৈরির জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। ভাষাগত ভুল বোঝাবুঝির কারণে শ্রমিকরা বিষয়টিকে আপত্তিকর হিসেবে নিয়েছেন। ইউএনও, থানার ওসি, ইউপি চেয়ারম্যান ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।’’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত