১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৪৭
মৌলভীবাজার–৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে প্রার্থী হয়েছেন দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব প্রীতম দাশ।
নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্রের সাথে জমা দেওয়া হলফনামায় প্রীতম জানিয়েছেন তার আয় বছরে ৭২ হাজার টাকা। সে হিসেবে মাসে তার আয় পড়ে মাত্র ৬ হাজার টাকা।
মৌলভীবাজার-৪ আসনে ৫ প্রার্থীর মধ্যে প্রীতমের আয়ই সবচেয়ে কম। তার এই আয় কৃষি থেকে আসে বলেও উল্লেখ করেছেন প্রীতম। নিজের পেশা হিসেবেও কৃষি উল্লেখ করেছেন প্রীতম।
এতো কম আয়ের প্রীতমের ভোটের খরচ আসবে কোথা থেকে? হলফনামার সাথে জমা দেওয়া নির্বাচনী ব্যয় ও ব্যক্তিগত সম্পদ বিবরণীতে প্রীতম জানিয়েছেন, নিজের নামে ব্যাংকে টাকা ৩ লাখ টাকাসহ বাবা-মা ও স্বজনদের ঋণ ও অনুদানে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহ করবেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনকে প্রীতম জানিয়েছেন, তিনি বোনের স্বামী ঝলক দেবের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা, কাকা সন্তোষ দাশের কাছ থেকে ৩ লাখ ও কাকাতো বোনের স্বামী প্রবাসী মিন্টু পালের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নির্বাচনের জন্য ধার নেবেন।
এছাড়া তার বাবা পৃথ্বিশ দাশ ৪ লাখ, মা কনিকা দাশ ২ লাখ ও কাকা পরিমল দাশ তাকে ৩ লাখ টাকা স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে দান করবেন। যা নির্বাচনে ব্যয় করবেন তিনি।
এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে হাজি মুজিব ব্যবসা ও কৃষিখাত থেকে বছরে আয় দেখিয়েছেন ২১ লাখ টাকা। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা বি.কম। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কমলগঞ্জ ও ঢাকায় দুই কোটি ২১ লাখ টাকার দুটি বাড়ি ও একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। বিবি স্টেডিয়াম সুপার মার্কেটে তাঁর ছয়টি দোকানের মূল্য প্রায় ৯০ লাখ টাকা। এ ছাড়া দেড় কোটির বেশি মূল্যের কৃষিজমি রয়েছে তাঁর নামে।
হাজি মুজিবের স্ত্রীর নামে উত্তরা, খিলক্ষেত ও চকবাজারে এক কোটি ৯১ লাখ টাকার প্লট, জমি ও দোকান রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে চারটি মামলা বিচারাধীন থাকলেও অতীতে একাধিক মামলা থেকে তিনি খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন। জেনারেল ভিডিও সেন্টারের নামে তাঁর ছয় কোটির বেশি টাকার ব্যাংকঋণ রয়েছে।
বিদ্রোহী প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মহসিন মিয়া পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি। হলফনামায় তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন এক কোটি ৬৭ লাখ টাকা। তাঁর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ কয়েক দশক কোটি টাকা। জমি, বাড়ি–ফ্ল্যাট, কোম্পানির শেয়ার, বিলাসবহুল গাড়ি ও ব্যাংকঋণের তথ্যও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর নামে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, তবে অধিকাংশ মামলা নিষ্পত্তি বা স্থগিত।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুর রব পেশায় শিক্ষক ও আইন পরামর্শদাতা। তাঁর বার্ষিক আয় সাত লাখ টাকা। নগদ ও ব্যাংকে জমাসহ তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। সিলেট ও কমলগঞ্জে তাঁর জমি ও উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বাড়ি রয়েছে।
আপনার মন্তব্য