১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:৪৭
গত বছরের ৫ আগস্টের পর পর ৮ মাস দেশেই আত্মগোপনে ছিলেন সা্বে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আবুল মোমেন। এসময় বাসা পরিবর্তন করেছেন কয়েকবার। চেহারাও পরিবর্তন করেছেন। পরে দেশ ছেড়ে চলে যান। এতে সরকারি লোকরাই তাকে সহযোগীতা করে বলে জানিয়েছেন ড. মোমেন।
সম্প্রতি ‘বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক’ নামে ইউটিউড ভিক্তিক একটি সংবাদ মাধ্যমের সঞ্চালক সুলতানা রহমানকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এমনটি বলেছেন আওয়ামী লীগ আমলের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ একে আবুল মোমেন এমনটি বলেছেন।
এতে তিনি বলেন, আমি কোন অন্যায় করিনি। কাউকে কোন দিন জেলে পাঠাইনি। কোন চুরি-চামারি করিনি। সো আই ওয়াজ কনফিডেন্ট। আমি কেন পালাব? কিন্তু যখন কর্নেল সাব আমাকে ফোন করে বললেন, স্যার উই উইল প্রটেক্ট ইউ। তখন আমার সবাই বললো, স্যার আপনার নাম্বার পেয়ে গেছে। এখান থেকে পালান।
গত বছরের ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো ড. মোমেন এই প্রথম প্রকাশ্যে কথা বলেন।
সাক্ষাতকারে নিজের আত্মগোপনের সময়ের কথা তুলে ধরে ড. আবুল মোমেন বলেন, আমি কোনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাইনি। আমার সব আত্মীয়-স্বজন পাবলিকলি নোন। আমি অন্যান্য লোকের যেমন রেন্ট হাউসের বাড়িতে ছিলাম। এইটা আমার খুব কাজ দিয়েছে।
মোমনে বলেন, এক বাসার মালিকের সঙ্গে দেখা হয়েছিলো। সেই মালিককে আমি জিজ্ঞেস করলাম, আপনার বাসা তো সুন্দর। উনাকে আমি আগে চিনতাম।
উনি বললেন, আমরা গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। হোটেলে আমাদের বায়ারকে রাখি না। বাসায় রাখি। এজন্য বাসা সুন্দর করে রাখি। এখন যেহেতু দেশে কোন বায়ার আসছে না। কেউ আসলে সিঙ্গাপুর কিংবা ব্যাংকক পর্যন্ত আসে। ঢাকায় ভয় পায় আসে না। সেজন্য সব খালি। তার জন্য আপনি ভাড়া পাচ্ছেন।
মোমেন আরও বলেন, আমি পালিয়ে পালিয়ে ছিলাম। যাতে বাইরে কেউ না চিনতে পারে। মবের জ্বালায় চেহারা-টেহারা সব পরিবর্তন করে ফেলেছি।
যখন নাপিতের কাছে গেলাম এক বাসায় গেলাম। সার্টেন টাইমে ওই বাসায় এক নাপিত এলো। সেটি আমার বাসা না। আরেকজনের বাড়িতে। যাতে ওই নাপিত কাউকে বলতে না পারে কোথায় আমার সঙ্গে দেখা হয়েছে।
দেশ ছাড়া প্রসরেঙ্গ তিনি বলেন, এটা লং স্টোরি। বহুত কষ্ট করে বের হয়েছি। আমার বউয়ের প্রেসারে ও উনার বুদ্ধিতে বের হয়েছি। এই যে বের হইছি কিছু জানি না। কারণ আমি তো ফোনে কথা বলতে পারি না। শি মেক দিস এরেঞ্জমেন্ট।
দেশ ছেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে না প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে অনেক ফড়িয়া আছে আপনাকে বিদেশ পাঠানোর জন্য। ওগুলো সবগুলোই মানি মেকিং। শুধু টাকা নেয়। আমি জীবিত আছি। আর মানুষের দোয়া। বহু লোক আমার জন্য দোয়া করেছে। ওমরাহ্ হজ করেছে। আমি তো অনেককেই চিনি না। বাট ডিড ইট।
তিনি বলেন, বিমানবন্দর আপনি যেতেই পারবেন না। ধারে কাছেও না। পালাইয়া আসছি। বিভিন্নভাবে পালিয়ে আসছি। বলা যাবে কোনো এক সময়। এখনো বলতে চাচ্ছি না। কারণ সরকারি লোকরাই আমাকে সাহায্য করেছে।
দেশকে বাঁচানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সাদাসিধে মানুষ। দেশটাকে বাঁচাতে হবে। দেশটাকে জঙ্গি দেশ বানাতে চাই না। এ ব্যাপারে সবার উদ্যোগ নেয়া দরকার।
জানা যায়, গতবছরের ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর আত্মগোপনে চলে যান ড. আবুল মোমেন। দেশের ভেতরেই পালিয়ে ছিলেন ৮ মাস। একাধিকবার বাসা বদল করেছেন। মোবাইল সিম বদলিয়েছেন ৬ বার। চেহারায়ও এসেছে আমূল পরিবর্তন। রেখেছেন দাড়িও।
গদ বছরের জুলাইয়ে আন্দোলনের সময় একে আবুল মোমেন আমেরিকাতে ছিলেন। আগস্টে দেশে ফিরেন। তারপর ৫ আগস্ট। ফলে তাকেও আত্মগোপনে যেতে হয়েছে।
আপনার মন্তব্য