২৭ ফেব্রুয়ারি , ২০২৬ ১৯:১১
সিলেটে সফরে এসে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেননি সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিমানবন্দরে তাকে আনতে যাওয়া সরকারি গাড়ি ফিরিয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘১২ তারিখের পর চড়বো।
শুক্রবার সকালে সিলেট এমজি ওসমানী বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটে। বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর শুক্রবার প্রথমবারের মতো সিলেটে আসেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বিমানযোগে সিলেটে ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। তার আগে থেকেই বিমানবন্দর এলাকায় শফিকুর রহমানের জন্য অপেক্ষায় ছিলো সিলেট জেলা প্রশাসনের একটি গাড়ি।
তবে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে অপেক্ষমান সরকারি গাড়ি দেখে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটা সরকারি কী সরকারী গড়ি? আমি ১২ তারিখের পরে চড়বো। আপনারা আসেন, আমি কৃতজ্ঞ। আমি পাওয়ার এক্সারসাইজ করতে চাই না। ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখের পর চড়বো’।
সিলেটে আসার পর দুপুরে সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সিলেট জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবির’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শফিকুর রহমান। এরপর নগরের কুদরতউল্লাহ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।
বিকেলে প্রথম সিলেট প্রেসক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফির ও পরে জামায়াত ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।
প্রেসক্লাবে ইফতার মাহফিলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলের দায়িত্ব হচ্ছে ইতিবাচক ধারার রাজনীতি করার সুবিধা তৈরি করে দেওয়া। তারা যতটা সুবিধা তৈরি করে দেবেন দেশ ততটাই লাভবান হবে। সংসদের ভিতরে কিংবা বাইরে সংঘাতের মধ্যে দেশের কোন উপকার হবে না। বরঞ্চ যদি সত্যিকার অর্থে জনগণকে ধারণ করে সমন্বয় করে রাজনীতি করতে পারি সেটাই জনগণকে উপহার দেবে।
জামায়াত আমীর বলেন, গণতান্ত্রিক বিশ্বে এটি হচ্ছে এসেন্স অফ ডেমোক্রেসি। এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু আমরা শিখে এসেছি, বিরোধী দল মানে সবকিছুতে বিরোধিতা। আর সরকারি দল মানে সবকিছুতে দমন। ওই দুইটা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। দমনও চলবে না। আর অন্ধ বিরোধিতাও চলবে না। এই দুইটার সমন্বয় চাই আমরা দেখতে।
সিলেটে ইতিবাচক ও সমন্বয়ের রাজনীতির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি বলেন, 'আমি সংসদে গেলে বা সিলেটে এলে আমার পরিচয় একটাই, আমি আপনাদের মানুষ।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যাশিত ফল না এলেও এবার তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনকে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা হয়নি- এটাই ইতিবাচক রাজনীতির দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে তিনি সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানান, বিরোধী দলের গঠনমূলক রাজনীতির সুযোগ নিশ্চিত করতে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, কালোকে কালো, সাদাকে সাদা বলবেন। আমার বিরুদ্ধেও কিছু পেলে বলবেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সংবাদে ‘টুইস্ট’ এলে সমাজ বিভ্রান্ত হয়। মিডিয়ার ভূমিকা হতে হবে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ৷ সরকারের ভুল হলে তা ধরিয়ে দেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি অকারণ প্রশংসাও ক্ষতিকর। নিউজ আর ভিউজ আলাদা। নিউজে যা আছে তাই দিন; ভিউজ সমাজ নেবে কি নেবে না, সেটা সমাজের সিদ্ধান্ত, যোগ করেন তিনি।
সিলেটের ঐতিহ্যগত সামাজিক সৌহার্দ্যের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও অতীতে হারমনি বজায় ছিল; ভবিষ্যতে তা আরও জোরদার করা সম্ভব।
এতে উপস্থিত ছিলেন শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সহ প্রশাসন, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
আপনার মন্তব্য