০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:৪০
প্রতীকী ছবি
নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ভিডিও তৈরি করায় চাকরি হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন সিলেটের এক ইমাম। বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকায় বড়বাজার বায়তুস সালাম জামে মসজিদের সাবেক ইমাম আব্দুর রহমান নাদিম এই অভিযোগ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘আমি জুলাই আন্দোলন থেকে সবকিছুতে আমি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। আমি একজন খতিব হিসেবে মসজিদে যে আলোচনাগুলো করার তা করেছি। ঘুষ, সুদসহ ও ধর্মীয় বিধি-বিধান তুলে ধরেছি। নির্বাচনের আগে আমি ছুটি নিয়ে আমার মামা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুকের নির্বাচনি কাজে গিয়েছিলাম। তবে জুম্মার নামাজের দিন আমি মসজিদে দায়িত্ব পালন করি। মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক সিলেট-৫ আসনে বিএনপি জোটের হয়ে নির্বাচন করেছিলেন। নির্বাচনি প্রচারণার সময় আমি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবকে নিয়ে একটি ভিডিও করেছিলাম। রমজানের শুরু থেকে আমি আর মসজিদে যাচ্ছি না, আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’’
ইমাম আব্দুর রহমান নাদিম বলেন, ‘‘তারেক রহমান সাহেবকে নিয়ে আমি একটা ভিডিও করেছিলাম, এটার জন্য আমাকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। মসজিদের ক্যাশিয়ার আক্তার হোসাইন সাহেব আমাকে বলেছেন যে আমি ভিডিও করার কারণে কিছু মুসল্লি আমার উপর ক্ষুব্ধ। উনার সাথে মসজিদ কমিটির সহসভাপতি আজিজুর রহমানও একই কথা বলেন। তবে আমার উপর এই অভিযোগ তুলে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণে মসজিদ কমিটির মোতাওয়াল্লি অ্যাডভোকেট মুখলিছুর রহমান সাহেব পদত্যাগ করেন। মোতাওয়াল্লি সাহেব আমায় বলেছেন আমার প্রতি করা অবিচারের কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন।’’
মসজিদ কমিটির পদত্যাগী মোতাওয়াল্লি অ্যাডভোকেট মুখলিছুর রহমান বলেন, ‘‘ইমাম সাহেব নির্বাচনের আগে তারেক রহমানকে নিয়ে একটি ভিডিওতে করেছিলেন। তিনি তার মামার নির্বাচনে গিয়ে একটি ভিডিও করেছিলেন, তিনি তখন ছুটিতে ছিলেন। মসজিদ কমিটি এই ভিডিওটির জের ধরে ইমাম সাহেবকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিতে ১৪ ফেব্রুয়ারি অব্যাহতি প্রদান করে। এই ঘটনার পরদিন আমি মসজিদ কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি, বর্তমানে আমি অন্য মসজিদে নামাজ আদায় করি।’’
এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার আক্তার হোসাইনের ব্যবহৃত নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
মসজিদ কমিটির সহসভাপতি আজিজুর রহমান বলেন, ‘‘এই আপনি সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলুন। সেক্রেটারি সব তথ্য দিতে পারবেন।’’
তবে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মো. সালেহ আহমদের ব্যবহৃত নম্বরে একাধিকবার কল করা হলে তিনি সাড়া দেননি।
ভিডিওতে ইমাম আব্দুর রহমান নাদিম বলেন, ‘‘তারেক রহমান সাব কিছু জিনিস পারেন না, নির্বাচনের আগে অবশ্যই উনাকে পারতে হবে। পারতে হবে, কেন বললাম, আমরা দেখতেছি তারেক রহমান সাব হেরে যাওয়ার একটি সমূহ সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। যেই কাজগুলো তারেক রহমান সাবকে পারতে হবে এখন, মনে করেন বিভিন্ন প্রোগ্রামে উঠে আহত-নিহত এদেরকে ধরে, জুলাইযোদ্ধাসহ যারা আছে বা গুম যারা হয়েছে এদেরকে ধরে কান্না করতে হবে, কান্না না আসলে জোর করে কাঁদতে হবে, এক্ষেত্রে আপনি কপি করতে পারেন বিভিন্ন নেতাদের কাছ থেকে। আর একটা হচ্ছে ধুমসে আপনার আশ্বাস দিতে হবে, সত্য হোক, মিথ্যা হোক। বাস্তবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হোক অথবা না হোক এই আশ্বাসগুলো ভাই আপনি দিবেন, না দিলে আপনি ফেইল করতেছেন। আপনি হিন্দুদের কাছে যাবেন, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে বলবেন আমরা শরিয়াভিত্তিক কোনো কিছু করব না...। আমরা প্রয়োজনে আপনাদের সব এক্সেস দিয়ে দিলাম। আর মুসলমানদের কাছে আসলে বলবেন আমরা শরিয়া আইন কায়েম করব, আর যা যা বলা লাগে বলবেন। একজন দেশের নাগরিক হিসেবে, আমি যদিও আপনার দল করি না, মহব্বতের কারণে বলতেছি, আপনি এগুলো করবেন। এই মিথ্যা আশ্বাসগুলো দিবেন, মানে ভণ্ডামি যাকে বলে আরকি। এরপরে যেগুলা করতে পারেন বলতেছি, এখন তো আর এটার সুয়োগ নেই, মানে ভোটার ট্রান্সফার করা। এটার সুযোগ যখন ছিল তখন আপনি দেশের বাহিরে ছিলেন। এর পরে আপনি করতে পারেন, বিভিন্ন মেকানিজমের সাথে আপনি জড়িত হতে পারেন, ধরেন বিভিন্ন পোলিং এজেন্ট যারা আছেন, আপনার ফেভারে যতগুলো আছে, সবগুলো না হলেও সরকারি চাকরিজীবী না হলেও আপনি বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেনে যারা আছেন তাদের দিতে পারেন। আপনি মোটামুটি এ কাজগুলো করতে পারেন। আরও অনেকগুলো কাজ আছে ভাই, এগুলো আপনি করেন না করলে আপনি ফেইল করতেছেন। এগুলো না করলে আপনি সরকার গঠনের যে পরিকল্পনা নিয়েছেন, সেটি দিবা স্বপ্ন থেকে যাবে। যার কারণে তারেক রহমান ভাই এই কাজগুলো আপনাকে অতি শিগগিরি করতে হবে। আপনারা ভালো থাকুন।’’
আপনার মন্তব্য