০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:১৫
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে যোগ দিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। কাইয়ুম চৌধুরীর নিয়োগের পর থেকেই স্থানীয় সরকারের অন্য প্রত্যাষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠেছেন ক্ষমতাসীন দলটির নেতারা।
বিশেষত জেলা পরিষদ, নগর উন্নয়ন কতৃপক্ষ, ওয়াসা, উপজেলা পরিষদ এস প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে নজর তাদের। এসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে আসতে পারেন বলে কয়েজন বিএনপি নেতার নাম আালোচিতও হচ্ছে।
জানা গেছে, ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে বিএনপি। দলটির একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও বিগত আন্দোলন সংগ্রামে যেসব নেতাকর্মীরা নিবেদিতভাবে দলের জন্য কাজ করেছেন তাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে সিলেটের দুই নেতাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিভাগের সবকটিতেই এভাবে মূল্যায়ন করা হবে বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে। এদিকে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ফাঁকা পদগুলোতে চোখ বিএনপি নেতাদের। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনেকেই প্রার্থী হতে তৎপর। তাই কেন্দ্র থেকে ডাক পাওয়ার আশায় আছেন অনেকে।
গেল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে আসার আগ পর্যন্ত সিলেট বিএনপি হারিয়েছে অনেক নেতাকে। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে দলীয় নির্দেশনা মেনে অনেকেই ত্রয়োদশ নির্বাচনে এমপি পদে প্রার্থী হননি। অথচ তাদের অনেকেই ছিলেন শক্তিশালী প্রার্থী। দলের জন্য তারা অনেক কিছু ত্যাগ করেন।
এ কারণে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসনেই জয় পায় বিএনপি। সিলেট-৫ আসনে কোন্দল থামাতে না পারায় সামান্য ভোটের ব্যবধানে জোট প্রার্থী পরাজিত হন।
সিলেট-৫ আসনে বিএনপি জোটের মনোনয়ন দেওয়া হয় মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে। কিন্তু দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন (বহিষ্কৃত)। বিপুল ভোট পেলেও বিদ্রোহী মামুনুর রশীদ মামুন ও বিএনপি দলীয় জোট প্রার্থী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বিজয়ী হতে পারেননি। ওই আসনে বিজয়ী হন জামায়াত জোটের প্রার্থী মাওলানা আবুল হাসান। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে ওই আসনটি হারাতে হয় জোটকে।
এ ছাড়া অন্য আসনগুলোতে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ কেউ নির্বাচন করলেও তেমন বেগ পোহাতে হয়নি বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের। বলতে গেলে বিএনপি নেতাদের কৌশলের কাছে পরাজিত হতে হয় জামায়াত জোটের প্রার্থীদের। ইতোমধ্যে দলের যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরকে করা হয়েছে প্রতিমন্ত্রী মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরীকে করা হয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক।
হুমায়ুন এবার সিলেট-২ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। বিগত সময়ে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে তিনি দেশে না থাকলেও বহির্বিশ্বে বিএনপির পক্ষে নানা পর্যায়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করেন। এ কারণে হুমায়ুনকে নির্বাচনের আগে দলের চেয়ারম্যানের আন্তজার্তিক উপদেষ্টা থেকে যুগ্ম মহাসচিব করা হয়।
হুমায়ুন লন্ডন থেকে ফিরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলে এলাকায় এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বিরোধ দেখা দেয়। ওই আসনে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনে প্রার্থী হতে প্রচার চালাচ্ছিলেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসীনা রুশদীর লুনা। হঠাৎ করে হুমায়ুনের আগমন মেনে নিতে পারেননি লুনা সমর্থকরা। এ নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েকবার লুনা-হুমায়ুন সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীকালে দল লুনাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়।
সিলেট-২ আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ায় দল হুমায়ুনকে আরেক দফা মূল্যায়ন করে। তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়।
সিলেট-৩ আসনে শক্তিশালী প্রার্থী ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এমপি হতে প্রচারও চালান। অথচ ওই আসনে তাঁকে বাদ দিয়ে প্রার্থী করা হয় যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালিককে।
পরবর্তীকালে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক করা হয় কাইয়ুম চৌধুরীকে। তাঁর নির্বাচনী কৌশলে সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে ৫টিতে বিজয়ী হয় বিএনপি।
দলের ত্যাগী নেতা হিসাবে সিলেট সিটি করপোরেশনের সিসিক প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে। একইভাবে সিলেটের ১৯ আসনে ত্যাগী নেতাকর্মীদের তালিকা করছে বিএনপি। সারাদেশের ন্যায় সিলেটের নেতাদেরকেও করা হচ্ছে মূল্যায়ন। ফলে সিলেট বিএনপির নেতাদের চোখ এখন বিভিন্ন দপ্তরের পদের দিকে।
জেলা ও উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার প্রশাসক ছাড়াও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান, সিলেট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক, গুরুত্বপূর্ণ পদসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদের দায়িত্ব পেতে তারা আগ্রহী।
দলীয় নেতাদের অনেকেই মনে করছেন এবার তাদের মূল্যায়ান করা হতে পারে। এ তালিকায় আছেন- বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী। এবারের নির্বাচনে সিলেট-৪ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দল তাঁকে মনোনয়ন না দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়।
এ ছাড়া সিলেট-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে নাম ছিল ব্যারিস্টার এমএ সালাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহসভাপতি বদরুজ্জামান সেলিম, নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকি, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল আহাদ খান জামাল, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরীর মতো অনেক নাম।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গৌছ বলেন, ১৭ বছর আন্দোলনের সঙ্গেই বাস ছিল নেতাদের। দলের সিদ্ধান্তে তাদের পুরস্কৃত করা হবে।
আপনার মন্তব্য