নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ মার্চ, ২০২৬ ১৫:২৭

সিলেটে যুবককে অপহরণের পর গোপন আস্তানায় জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি, আটক ১০

সিলেট নগরী থেকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে ১০ জনকে আটক করা করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে দুই ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, শনিবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন তাঁতিপাড়া পয়েন্ট এলাকা থেকে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার মাহতাবপুর গ্রামের মৃত খোকা সরকারের ছেলে সুহেল সরকারকে (২২) ১৪ থেকে ১৫ জন দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক অপহরণ করে।

পরে তাকে নগরের তাঁতিপাড়া এলাকার নাজমা নিবাস নামের ৫৬ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে ধারালো চাকু ও কাঁচি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং লোহার রড ও স্টিক দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয় এবং ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়।

পুলিশ আরও জানায়, ভিকটিমের পরিহিত কাপড় খুলে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং বিষয়টি থানায় জানালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরে সুহেল সরকার বিষয়টি কোতোয়ালী মডেল থানাকে জানালে পুলিশ তাঁতিপাড়ার ওই বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে ভিকটিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১০ জনকে আটক করা হয়।

আটকরা হলেন, সিলেট জেলার মোগলাবাজার থানার গোটাটিকর এলাকার মো. সেলিম আহমদের ছেলে তানজিম মাহবুব নিশান (২১), সিলেট নগরের শাহজালাল উপশহরের বাসিন্দা মো. মোক্তাদিরের ছেলে আহসান হাবিব মুন্না (১৯), সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার মন্ডলপুর এলাকার মো. ফয়জুল করিমের ছেলে জুবাইন আহমদ (১৯), বর্তমানে সিলেট নগরের হাওয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করেন, সিলেট জেলার জালালাবাদ থানার আমানতপুর এলাকার আব্দুল মন্নানের ছেলে সুফিয়ান আহমদ (১৯), বর্তমানে শাহপরাণ থানার শিবগঞ্জ লামাপাড়া এলাকায় বসবাস করেন, সিলেট নগরের চৌকিদেখী এলাকার আনোয়ার মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন (১৯), কোতোয়ালী থানার কাজীটুলা এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে মারজান (১৯), সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার রায়সত্তরপুর এলাকার সুজন মিয়ার ছেলে মোসাদ্দেক আলী (১৮), বর্তমানে সিলেটের এয়ারপোর্ট থানার হাউজিংস্টেট এলাকায় বসবাস করেন, কোতোয়ালী থানার হাওয়াপাড়া এলাকার রুমান আহমদের ছেলে ফারদিন আহমদ (১৮), শাহপরাণ থানার শিবগঞ্জ মজুমদারপাড়া এলাকার রতনের ছেলে জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮) এবং কোতোয়ালী থানার হাওয়াপাড়া এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে মিজান আহমদ (১৮)।

অভিযানের সময় তাদের হেফাজত থেকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা এলাকার হাজী বাহার উদ্দিনের ছেলে জাহিদ আহমদ (৪২) নামের আরেক প্রবাসীকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ বলছে, আটককৃতদের কাছ থেকে দুই ভিকটিমের দুটি মোবাইল ফোন, নগদ টাকা এবং ঘটনায় ব্যবহৃত কাঁচি, চাকু ও লোহার রুল উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কোতোয়ালী মডেল থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন কতোয়ালি মযেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মঈনুল জাকির।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত