সাজু মারছিয়াং, শ্রীমঙ্গল

১৪ মার্চ, ২০২৬ ০১:১৫

স্বস্তির বৃষ্টিতে জেগে উঠল চায়ের রাজধানী

ছবি: সংগৃহীত

ভোরের আলো তখন পুরোপুরি ফুটেনি। কুয়াশা ভেজা সবুজ ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে থাকা চা বাগানের পাতাগুলো যেন নিঃশব্দে অপেক্ষা করছিল। অনেক দিন ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা সেই অপেক্ষার শেষ হলো এক বৃষ্টিভেজা সকালে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের চা বাগানগুলোতে শুক্রবার নেমে এলো কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি। দীর্ঘ খরার পর সেই বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ যেন নতুন প্রাণ এনে দিল ক্লান্ত গাছগুলোর শরীরে। ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে পড়ল ৩.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি। তারপর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা—আরও জোরে নামল বৃষ্টি, ৩২.৫ মিলিমিটার। সব মিলিয়ে দিনের শেষে রেকর্ড হলো ৩৬.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।

বাগানের শ্রমিকেরা যখন ভেজা মাটিতে পা রাখলেন, তাদের চোখেমুখে ফুটে উঠল স্বস্তির হাসি। এতদিন ধরে শুষ্ক হয়ে থাকা মাটিতে আবার ফিরে এসেছে আর্দ্রতা। ছাঁটাই করা গাছগুলো যেন নতুন করে নিশ্বাস নিতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শামীম আল মামুন বলেন, চা গাছের বেড়ে ওঠা আর পাতা উৎপাদনের জন্য বৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি। বছরে দুই হাজার মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত চা শিল্পের জন্য আদর্শ। আর একটি পরিণত চা গাছ শীতকালে গড়ে ১.৩ মিলিমিটার এবং গ্রীষ্মকালে প্রায় ৬ মিলিমিটার পানি প্রয়োজন হয়।

গত জানুয়ারি থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক বাগানেই সেচ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। কোথাও পানির উৎস নেই, কোথাও জলাধার শুকিয়ে গেছে। ফলে স্প্রিঙ্কলার সেচ ব্যবস্থাও অনেক জায়গায় অচল হয়ে পড়েছিল।

কিন্তু প্রকৃতির এই হঠাৎ দান যেন সব চিন্তা দূর করে দিল। এখন বাগানের ডালপালায় ধীরে ধীরে উঁকি দেবে সেই কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য—‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’।

দীর্ঘ খরার পর শ্রীমঙ্গলের চা বাগানগুলো আবার সবুজে ভরে ওঠার অপেক্ষায়। আর বাগানজুড়ে শ্রমিকদের চোখে এখন একটাই স্বপ্ন—নতুন মৌসুমে কুঁড়ি ভরা ঝুড়ি নিয়ে ফিরবে প্রাণবন্ত দিনগুলো।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত