শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

২২ মার্চ, ২০২৬ ২৩:৩৫

ঈদের ছুটিতে চায়ের রাজ্যে পর্যটকদের ঢল

ঈদুল ফিতরের টানা সাতদিনের ছুটি ঘিরে পর্যটক সমাগমে ভরপুর হয়ে উঠেছে অন্যতম পর্যটন সমৃদ্ধ জেলা মৌলভীবাজারে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা এক সপ্তাহের ছুটি। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। এই ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের মতো মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ছিল লক্ষনীয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা এখানে এসেছেন। পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও জেলার দর্শনীয় জায়গা গুলোতে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

মৌলভীবাজারে প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে দেশি-বিদেশি ও স্থানীয়সহ লক্ষাধিক পর্যটক আসেন। জেলার সাতটি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। এসব দর্শনীয় স্থান দেখতে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে আসেন। এর পাশাপাশি প্রায় দুই শতাধিক রিসোর্ট রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন রিসোর্টের বেশির ভাগই শ্রীমঙ্গলে। এসব স্থান ঘুরে দেখতে পর্যটকদের মধ্যে উৎসাহের কমতি নেই।

শনিবার ঈদের দিন ও আজ রোববার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। অনেকে নিজস্ব বাহন নিয়ে আবার অনেকে দল বেঁধে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তবে বেশির ভাগ পর্যটক শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় করছেন। শ্রীমঙ্গল শহরে যানজট লেগে থাকায় পর্যটকদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, এক মাস পর আবার পর্যটকের আগমন ঘটেছে জেলায়। জেলায় অন্তত কয়েক হাজার পরিবার পর্যটন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। পর্যটন ব্যবসা ভালো না হলে এসব পরিবারের সদস্যদের কষ্টে জীবন যাপন করতে হয়। এবার কম বেশি পর্যটক এসেছেন। পর্যটকেরা ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এই বছর ছোট রিসোর্টগুলো শতভাগ বুকিং হয়েছে। বড় রিসোর্টগুলো প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং হয়েছে।

জেলার উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতি সৌধ, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, বাইক্কা বিল, চা-কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি৭১, ডিনস্টন সিমেট্রি, হামহাম জলপ্রপাত, মণিপুরী পল্লি, হাকালুকি হাওর, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, উঁচু-নিচু সবুজ চা-বাগান, আদি নীলকণ্ঠ টি কেবিন, সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, গগন টিলা, পাথারিয়া হিলস রিজার্ভ ফরেস্ট, রাজকান্দি বন, খাসিয়া পুঞ্জি, হাকালুকি হাওর, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, সহ স্থানীয় বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাসস্থলসহ প্রায় শতাধিক দর্শনীয় স্থান রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, ২০ রমজান পর্যন্ত আগাম বুকিং একেবারে কম ছিল। রমজানের শেষ দিকে হোটেল ও রিসোর্টে আগাম বুকিংয়ের সংখ্যা বেড়েছে। তবে বড় রিসোর্টগুলো শতভাগ বুকিং হয়নি।

ট্যুরিস্ট পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের পাশাপাশি ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। আগত পর্যটকেরা নিরাপদে চলাফেরার জন্য বেশির ভাগ পর্যটনকেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় পর্যটকেরা জানান, তাঁরা প্রতিবছর ঈদের সময় একটি পর্যটনকেন্দ্র থেকে অন্য পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরে বেড়ান। বিশেষ করে চা-বাগান ও বিভিন্ন রিসোর্টে ঢুকে ছবি তুলতে সবার আগ্রহ। অনেক রিসোর্ট আছে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে প্রবেশ করে ঘুরে দেখা যায়। তবে জেলার সরকারিভাবে কোনো পর্যটনকেন্দ্র নেই। যা আছে বেশির ভাগ ব্যক্তি মালিকানা। সরকারিভাবে পর্যটনকেন্দ্র তৈরি করলে জেলায় পর্যটকের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন তাঁরা।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ঈদের দিন থেকে জেলায় পর্যটকেরা নিরবচ্ছিন্নভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত