সিলেটটুডে ডেস্ক

১২ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:১৯

দক্ষিণ সুরমায় জাপা নেতার উপর হামলার ঘটনায় ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে হামলায় আহত দক্ষিণ সুরমা উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ইলাছ মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি বর্তমানে লাইফসাপোর্টে রয়েছেন। তাঁর উপর হামলার ঘটনায় ৮ জনের নামোল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করে শনিবার রাতে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা দায়ের করেছেন ইলাছ মিয়ার ভাতিজা কুতুব উদ্দিন। মামলা নম্বর-০৭।

মামলায় আসামিরা হলেন, উপজেলার তেতলি ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত আব্দুস ছোবহানের ছেলে লাল মিয়া ওরফে গেদা মিয়া, লাল মিয়া ওরফে গেদা মিয়ার ছেলে আতিকুর রহমান, পতিক মিয়া, কামাল, জামাল, আপ্তাব মিয়ার ছেলে সাহেদ, আবুল, সেলিম ও অজ্ঞাতনামা আরো ৫-৬ জন।

মামলার বাদি এজাহারে উল্লেখ করেন, আতিকুর রহমানের সাথে হামলার শিকার ইলাছ মিয়ার ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। ইলাছ মিয়া কুচাই সেটেলমেন্ট অফিসে ভূমি নিয়ে ১০১৮৮/১৫ আপিল দায়ের করেন। গত ২২ নভেম্বর এই আপিলের শুনানি ছিল। ওই দিন লাল মিয়া ওরফে গেদা মিয়া ও আতিকুর রহমান ইলাছ মিয়ার উপর হামলা করেন। এ ঘটনায় ইলাছ মিয়া মোগলাবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী সময়ে এই মামলা ও জমির বিরোধের জের ধরে গত শুক্রবার ইলাছ মিয়ার উপর হামলা চালানো হয়।
মামলার বাদি কুতুব উদ্দিন জানান, ওই দিন সাড়ে ১২টায় অভিযুক্তরা তাঁর চাচার উপর হামলা করে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপায়। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করে। ওসমানী হাসপাতালের আইসিইউতে স্থান না থাকায় ইলাছ মিয়াকে তাৎক্ষণিক ভর্তি করা হয় ইবনে সিনা হাসপাতালে। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। কুতুব উদ্দিন জানান, তাঁর চাচাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা ঢাকায় প্রেরণের পরামর্শ দিয়েছেন।

মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) জেদান আল মূসা বলেন, ইলাছ মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাছে।

জাতীয় পার্টির নিন্দা ও আসামি গ্রেপ্তারের দাবি : দক্ষিণ সুরমা উপজেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক ইলাছ মিয়ার উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ। গতকাল এক বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, জাপা নেতা ইলাছ মিয়ার উপর বর্বরোচিত হামলা চালোনা হয়েছে। তিনি এখন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। প্রশাসন এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক মামলা রেকর্ড করায় জাপার পক্ষ থেকে প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তারা বলেন, অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন করা হবে। বিবৃতিদাতারা হলেন, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ইয়াহইয়া চৌধুরী এহিয়া এমপি, কেন্দ্রীয় সদস্য সাইফুদ্দিন খালেদ, জেলা জাপার আহ্বায়ন আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী, সদস্য সচিব উছমান আলী।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত