ছাতক প্রতিনিধি

১২ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৭:৪৮

ছাতকে সমতা স্কুল কমিটির সৃষ্ট বিরোধ নিয়ে দু’পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত

ছাতকের সমতা স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়ম ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগের শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ ডিসেম্বর) সহকারী কমিশনার(ভুমি)’র কার্যালয়ে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

পৃথকভাবে উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করেন সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ হাফিজুর রহমান। শুনানির সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদের অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য ও অসৌজন্যমুলক আচরণে বিব্রতবোধ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ হাফিজুর রহমান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলেন।

জানা যায়, সমতা স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হয় ৪ নভেম্বর। মেয়াদ শেষ হওয়ার দু’দিন আগেই তড়িঘড়ি করে নতুন কমিটিতে ফারুক মিয়াকে সভাপতি হিসেবে আবারো বহাল রাখা হয়। কোন রেজুলেশন ছাড়াই বিগত দুই মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করা ফারুক আহমদকে আবারো কৌশলে সভাপতি নির্বাচিত করায় এলাকার শিক্ষানুরাগী, ভুমিদাতা সদস্যসহ স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদী হয়ে উঠেন।

তাদের অভিযোগ, বিগত দিনের সকল অনিয়ম-দুর্নীতি প্রকাশ পাওয়ার ভয়েই প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে অবৈধ পন্থায় রাতারাতি ফারুক মিয়াকে সভাপতি হিসেবে বহাল রাখতে সহায়তা করেন তিনি।

এ ঘটনায় ১৩ নভেম্বর এলাকাবাসীর পক্ষে কামারগাঁও গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের পুত্র এবং সমতা স্কুল এন্ড কলেজের ভুমিদাতা সদস্য ও কলেজ পরিচালনায় অর্থ যোগানদাতা যুক্তরাজ্য প্রবাসী এমএম ইসলাম দিলার ভাই আজাদ হোসেন বর্তমান পরিচালনা কমিটি বাতিলের দাবিতে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরে একটি অভিযোগ দেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার উভয় পক্ষের শুনানি পৃথকভাবে গ্রহণ করা হয়। বিবাদী পক্ষের শুনানীকালে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ ভয়ে ও চাপে তিনি সভাপতি নির্বাচনে কৌশল অবলম্বন করেছেন বলে স্বীকার করে বলেন, সভাপতি ফারুক মিয়ার চাপেই তিনি সভাপতি পদপ্রার্থীর তালিকায় তিন জনের মধ্যে ফারুক মিয়া ছাড়া অন্য দু’জনের তথ্য গোপন রেখে মন্তব্য কলাম ফাঁকা রাখেন।

নিয়ম মেনেই শিক্ষা বোর্ডে তালিকা পাঠিয়েছেন বলে দাবি করে প্রধান শিক্ষক বলেন এতে যদি ভুল হয়, সে ভুল শিক্ষা বোর্ডের। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক উত্তেজিত হয়ে টেবিল চাপড়িয়ে বলেন, আপনার রিপোর্টের কারণে আমার চাকুরী গেলে বাড়ি চলে যাব।

এ সময় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে হৈচৈ পড়ে যায়। অবশেষে তার কৃতকর্মের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন প্রধান শিক্ষক।

সহকারী কমিশনার(ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ হাফিজুর রহমান জানান, শুনানিতে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আইনের মাধ্যমেই এ বিষয়ে রিপোর্ট দেয়া হবে। প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হবে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত