১৩ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৬:৪৫
বিদ্যালয়ের নাম জিন্নাহ মেমেরারিয়াল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই জিন্নাহ সেই জিন্নাহ-ই, যিনি পাকিস্তানের জাতির জনক, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৫ বছর পেরোতে চলছে। অথচ এখনো এদেশে বিদ্যালয়ের নাম পাকিস্তানী জাতির জনকের নামে।
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপেজলার সাচনাবাজারে গেলে দেখা মিলবে জিন্নাহর নামাঙ্কিত এই বিদ্যালয়ের। স্কুলের সামনে নামফলকে ও অফিস কক্ষের ভেতরে বোর্ডে লেখা রয়েছে এই নাম।
গত ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ দেশের যেসব স্থাপনায় স্বাধীনতা বিরোধীদের নামে নামফলক রয়েছে, তা সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। অথচ খোদ পাকিস্তানী জাতির জনকের নামেই রয়ে গেছে বিদ্যালয়ের নাম। তা সরানোর কোনো উদ্যোগ নেই।
বিদ্যালয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাযায়, জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা বাজার ইউনিয়নের রুপাবালী গ্রামে ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাজনের সময়ই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সাচনা বাজার ইউনিয়নের রুপাবালী আর দক্ষিন সুনামগঞ্জের কান্দাগাও গ্রামবাসীর উদ্দ্যোগে প্রথম থেকেই বিদ্যালয়টি প্রতিষ্টা করা হয়। প্রথম থেকেই দু গ্রামের মানুষের মধ্যে নাম নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে রুপাবালী গ্রামের ভুমি দাতা আব্দুর রাজ্জাক তৎকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের নাম রাখেন 'জিন্নাহ মেমোরিয়েল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়'।
১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হবার পর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এই বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন। তবে পরিবর্তনের আগেই এসে যায় ১৯৭৫। খুন হন সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এরপর আরনাম পরিবর্তন হয় নি।
জানা সম্প্রতি ফের বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ ব্যাপারে ফাইল চালাচালি করা হয়। এর পর থেকে সরকারের বিভিন্ন তদন্ত সংস্থাও সরেজমিনে পরিদর্শন করে যান। কিন্তু এ উদ্যোগের দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো নাম পরিবর্তন করা হয়নি।
এই এলাকার নতুন প্রজন্মের দাবি দ্রুত বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে জাতির কোন শ্রেষ্ঠ সূর্য সন্তানের নামে বিদ্যালয়টি নামকরণের।
জিন্নাহ মেমোরিয়েল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্যান ব্রত তালুকদার বলেন, আমি ২০০৫ সাল থেকে জিন্নাহ মেমোরিয়েল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আমি প্রথম থেকেই চেয়েছি যেন নামটির পরিবর্তন হয়, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ ব্যাপারে আমার কাছে তথ্য চেয়েছেন, তা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা এসেও তদন্ত করেছে। কিস্তু এখনো নাম পরিবর্তন হয়নি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্থানীয় রুপাবালী গ্রামের আব্দুল আজিজ বলেন, পাকিস্তানের নেতা জিন্নাহর নামে এখনো স্বাধীন দেশের একটি স্কুলের নাম থাকতে পারে না। আমরা চাই দ্রুত বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হোক। এর জন্য যা যা করার দরকার গ্রামবাসী তা করতে প্রস্তুত আছে।
এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: হজরত আলী বলেন, বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হলে আমি এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়ে নাম পরিবর্তনের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। আশা করছি শীগগিরই নাম পরিবর্তন হবে।
তবে প্রাথমিক শিক্ষা সিলেট বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডি) তাহমিনা হক বলেন, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে জিন্নাহর নামে বিদ্যালয় থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। এই ধরনের কোন ফাইলও পায়নি। বিষয়টির ব্যাপারে খোজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মন্তব্য