১৪ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০১:১৮
সিলেট নগরীর মুক্তিযোদ্ধা গলিতে লাগা আগুনকে নাশকতা বলছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। এই গলির সড়ক সংস্কার নিয়ে কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিলো। এই বিরোধ থেকেও আগুন লাগানো হতে পারে বলে শঙ্কা তাদের।
তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এ আগুন লাগতে পারে।
মঙ্গলবার সকালে মুক্তিযোদ্ধা গলিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পুড়ে যায় ১০টি ছাপাখানা। এতে আনুমানিক কোটি টাকার ক্ষতি হয় বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্থদের।
মঙ্গলবার মধ্যরাতেও মুক্তিযোদ্ধা গলিতে গিয়ে দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া ছাপাখানা পরিষ্কার করার কাজ করছেন ব্যবসায়ীরা।
এসময় কথা হয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গলি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী কাবুলের সাথে। তিনি জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর সোমবার রাতভর এসব প্রেসে পোস্টার ছাপার কাজ চলে। সকাল ছয়টার দিকে প্রেসের কাজ করে বন্ধ করে তারা বাসায় যান। আটটার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে আসেন।
তিনি দাবি করেন, ওই গলির রাস্তা নির্মাণ নিয়ে একটি পক্ষের সাথে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী, সাবেক মেয়রেরও জানা আছে। শত্রুতা থেকে ওই পক্ষই আগুন লাগাতে পারে বলে শঙ্কা তাঁর।
এদিকে, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে আসে সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন। এসময় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দরা বিষয়টি তাঁর সামনেও উপস্থাপন করেন। তিনি প্রতি উত্তরে রাস্তা নির্মাণের সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন।
এর আগে সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিটি করপোরেশনের নির্বাহী এনামুল হাবীব। তিনিও ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
আগুনে এখানকার পুড়ে যাওয়া দোকান গুলো হচ্ছে- মদিনা আর্ট, মেঘনা অফসেট, কাজী প্রিন্টিং, শাহীন অপটিকস, অনিক অফসেট প্রেস, ছাপাঘর, সিদ্দিক প্রিন্টিং এন্ড বুক বাইন্ডিং, আলম আর্ট এন্ড রাবার স্ট্যাম্প, ডিজাইন মেলা ও নাম উল্লেখ নেই একটির।
এ ব্যাপারে সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিভাগীয় উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আমাদের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। দোকানে কাগজসহ অনেক দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নিভাতে দেরি হয়েছে। শর্টসার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আপনার মন্তব্য