১৪ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৮:৩০
অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য। একজন শহীদ বুদ্ধিজীবী। ১৯৭১ সালে তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও জগন্নাথ হলের আবাসিক শিক্ষক।
২৫শে মার্চ কালো রাতে যখন পাকবাহিনী হামলা চালায় নিরীহ বাঙালির উপর, তখন তিনি জগন্নাথ হলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকটি হলে পাকবাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞ শুরু হলে জগন্নাথ হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে এ তরুণ প্রভাষকও বরণ করেন নির্মম মৃত্যু।
মুক্তিযুদ্ধ শেষে স্বাধীন বাংলাদেশে তাঁর স্মৃতিকে চিরভাস্কর করে ধরে রাখতে নিজ জন্মভূমি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলা থেকে তাঁর গ্রামের বাড়ি জন্তরী যাওয়ার রাস্তাটির নামকরণ করা হয় অনুদ্বৈপায়ন সড়ক। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৫ বছর সড়কটির নাম কালের গর্ভে এখন কলেজ রোড নামে পরিচিত।
তবে স্থানীয়দের উদ্যোগে সড়কটির নাম পুণর্জাগরণ সহ এ শহীদ বুদ্ধিজীবীর স্মৃতি চিরজাগরুক করতে স্থাপিত হয়েছে স্মুতিস্তম্ভ। আর স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে উন্মোচন হয়েছে এ স্মৃতিফলকটি।
স্থানীয়দের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ, নবীগঞ্জ সরকারী ডিগ্রী কলেজ ও শহীদ অনুদ্বৈপায়নের নিজ গ্রাম জন্তরীর ত্রিমূখী রাস্তার মিলনস্থলের পাশে নির্মান করে এ স্মৃতিস্তম্ভটি।
১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ কর্তৃক শহীদ বুদ্ধিজীবী অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যকে নিয়ে প্রকাশিত ডাক টিকেটকে প্রতিপাদ্য করে তৈরী করা হয়েছে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের মূল নকশা।এ স্মৃতিফলকে রয়েছে শহীদের আত্মপ্রতিকৃতি ও তার সংক্ষিপ্ত জীবনপাঠ। শহীদ বুদ্ধিজীবীর প্রতিকৃতিটি অঙ্কন করেন চিত্রশিল্পী সত্যজিৎ রাজন।
বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) জাতীয় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের সকালে এ স্মৃতিস্তম্ভ উন্মোচনের সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ এমএ মুনির চৌধুরী বাবু, উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী তাজিনা সারোয়ার, সিলেট মদনমোহন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল ফতেহ ফাত্তাহ নবীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম হোসেন আজাদ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুর উদ্দিন (বীর প্রতিক), শহীদ অনুদ্বৈপায়ন স্মারক গ্রন্থের সম্পাদক উজ্জ্বল দাশ, চিত্রশিল্পী সত্যজিৎ রাজন প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য