নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০১:২৩

খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলায় আজ ফের সাক্ষ্যগ্রহণ

কলেজ ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিস হত্যাচেষ্টা মামলায় আজ (বৃহস্পতিবার) পুণরায় সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে। আজ সিলেট মূখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে। তবে আজকের সাক্ষ্য তালিকায় খাদিজার নাম থাকলেও তিনি আসছেন না বলে জানা গেছে।

এরআগে গত ১১ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিচার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করে খাদিজাকেও আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন। তবে অসুস্থতাজনিত কারণে খাদিজা আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা মাসুক মিয়া। খাদিজা না আসলে স্কয়ার হাসপাতালে খাদিজাকে চিকিৎসা প্রদান করা চিকিৎসক আজ সাক্ষ্য দিতে আসবেন বলে জানা গেছে। আজকে যথারীতি আদালতে হাজির করা হবে এই মামলার আসামী বদরুল আলমকে।

এরআগে দুই দফায় এই মামলার ৩৭ সাক্ষীর ৩২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন এই আদালতের এপিপি মাহফুজুর রহমান।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে খাদিজার বাবা জানান, পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তির পর থেকে খাদিজার শরীরে প্রতিদিনই বেশ কয়েকবার থেরাপি দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকরা খাদিজার শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করে বলেছেন শারীরিক অবস্থা এখন ভালো নয়। তাই বৃহস্পতিবার সাক্ষ্য দিতে আদালতে উপস্থিত হতে পারবে না খাদিজা।

তিনি আরো জানান, ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রের চিকিৎসকের দেয়া চিকিৎসাপত্র আদালতের সরকারী কৌশলীর মাধ্যমে তুলে ধরে সময় চাওয়া হবে।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খাদিজার ওপর হামলার পর মামলা হওয়ার এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় শাহপরান থানার উপপরিদর্শক হারুনুর রশিদ গত ৮ নভেম্বর অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আদালতে দাখিল করেন। ১৫ নভেম্বর আদালতে অভিযোপত্রের শুনানি শেষে তা গৃহীত হয়।

উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর সিলেট এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলমের চাপাতির কোপে গুরুতর আহত হন খাদিজা। প্রথমে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পর সেখান থেকে ৪ অক্টোবর তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে এনে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়। স্কয়ার হাসপাতালে প্রথম দফায় খাদিজার মাথায় ও পরে হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়। তার অবস্থার একটু উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। এরপর আইসিইউ থেকে এইসডিইউ-তে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে ২৬ অক্টোবর তাকে কেবিনে নেওয়া হয়। এরপর আবারো মাথায় ও হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়। অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠার পর সম্প্রতি স্কয়ার থেকে সিআরপিতে নেওয়া হয় খাদিজাকে।

হামলার দিন ঘটনাস্থল থেকে বদরুল আলম আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা। আদালতে হামলার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন বদরুল। বদরুলের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে। বদরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় ৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে। পরে স্থায়ী বহিষ্কার করে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত