১৬ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৪:০৫
সুকুমার চন্দ্র মালাকার, মুক্তিযোদ্ধা। পৈত্রিক নিবাস ফেঞ্চুগঞ্জ। একাত্তরে ভারত থেকে ট্রেনিং নিয়ে এসে যুদ্ধ করেছিলেন মৌলভীবাজারের জুড়ি, বড়লেখা ও কুলাউড়া অঞ্চলে ৪ নং সেক্টরের অধীনে।
বিজয়ের ৪৫ তম বর্ষপূর্তির দিনে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপকালে বলছিলেন তাঁর মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া ও রণাঙ্গনের কথা। জানাচ্ছিলেন এ সময়ে মুক্তিযোদ্ধারা কেমন আছে তাও।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সুকুমার চন্দ্র মালাকার বলেন, আমাদের সাথে প্রায় শ পাঁচেক মানুষ। মানুষের আহাজারি, বাচ্চাদের কান্নায় মায়েরা হাঁটতেই পারছেন না। তবুও কষ্ট করে হাটতে হচ্ছে তাদের। দত্তগ্রাম সীমান্ত দিয়ে আমরা ত্রিপুরায় প্রবেশ করি। আমাদের দশ জনের উদ্দেশ্য মুক্তিফৌজে যাব। ভারতে পৌছার পর ওখানের কয়েকজনের সহায়তায় কৈলাসরের টিলাগড় ট্রেনিং সেন্টারে চলে চাই।
বিজয়ের ৪৫ বছর পর বাংলাদেশ বেশ এগিয়েছে বলে তিনি জানান। বর্তমান বাংলাদেশ নিয়ে তার অভিমত জানতে চাইলে বলেন, আমরা ত এগিয়ে যাচ্ছি। তবে মাঝে মাঝে মধ্যে নিজেদের মধ্যে এসব হানাহানি ভালো লাগে না। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা আগের থেকে এখন অনেক ভালো আছেন। সরকার আমাদের সম্মানী ভাতা দিচ্ছে, তা নিয়ে খেয়ে পরে বেঁচে আছি মোটামুটি।
মুক্তিযোদ্ধা সুকুমার চন্দ্র মালাকার জানান, এপ্রিল মাসে তিনি চলে যান ভারতে ট্রেনিং নিতে। তখন প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, তৎকালীন সময়ের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সৈয়দ মহসীন আলী তাদেরকে সহযোগিতা করেন।
কৈলাসরের টিলাগড় ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে চলে যান সোনামুড়ি ট্রেনিং ক্যাম্পে। সেখানে গভীর জঙ্গলে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হত। ভারতীয় ক্যাপ্টেন রাজা রাম সিংহা তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন তিন সপ্তাহের মত।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, এপ্রিলের প্রথম দিকে তাঁকে একবার পাকিস্তানী মিলিটারিরা আটক করে ফেলেছিলো। সেখানে তিনি পাগলের অভিনয় করে কোন মতে বেঁচে ফিরেছেন।
তিনি বলেন, ট্রেনিং শেষে বড়লেখার জুড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করি। তখন বড়লেখার সোনারূপা চা বাগান পাক মিলিটারিদের দখলে। পাহাড়ের উপর বাংকার। ৪৫ জনের মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাচে আমি গ্রেনেড থ্রো করতাম। আমাদের টার্গেট ছিল জুড়ি থেকে বড়লেখা যাবার সময় যে কয়েকটা ব্রিজ ছিল সেগুলো উড়িয়ে দেয়া যাতে মিলিটারি জুড়িতে আসা যাওয়া না করতে পারে।
জুনের প্রথম সপ্তাহ। হালকা বৃষ্টি হয়েছে। আমরা খবর পেলাম পাকিস্তানি মিলিটারির একটি গাড়ি বড়লেখা বাজার থেকে জুড়িতে আসবে। আমরা তিনজন চলে গেলাম একটি মিলিটারির গাড়ি উড়িয়ে দিতে। সেদিন মনে হয় রোববার ছিল। আমরা জুড়ি নদীর পাশে মাছ ধরার বেশে বসে ছিলাম কখন মিলিটারির জিপ আসে। মেলেটা-রির জিপ আসতেই তৎক্ষণাৎ আমি গ্রেনেড থ্রো করলাম। সাথে সাথেই বিকট শব্দ। ঐ অপারেশনে চার পাঁচ জন মিলিটারি মারা গেছিলো।
এখন সরকার থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকাংশই ভালো আছে জানালেও এখনও সকল মুক্তিযোদ্ধা এমন সুবিধা পাচ্ছে না বলেও আশঙ্কা তাঁর। এজন্যে তিনি বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
আপনার মন্তব্য