১৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৩:২৬
চাকুরী হারানো আতঙ্কে দিন কাটছে বহুজাতিক গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান শেভরনের অস্থায়ী কর্মীদের। চাকরী স্থায়ীকরণের দাবিতে এবার আন্দোলনে নেমেছেন তারা। চাকরী স্থায়ীকরণসহ ১১ দফা দাবিতে রোববার সকালে সিলেটের লাক্কাতুরার জালালাবাদ গাসক্ষেত্রের সামনে মানববন্ধন করেছে তারা।
জালালবাদসহ সিলেটের তিনটি গ্যাসক্ষেত্র শেভরণের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
আন্দোলনকারীদের একজন বুধ চন্দ্র শর্মা বলেন, শেভরনে প্রায় আটশ অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। যাদের বেশিরভাগ নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত। এদের মধ্যে জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে অস্থায়ী কর্মী আছেন ২৩২ জন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা চাকরী স্থায়ীকরণসহ ১১ দফা দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কতৃপক্ষ তা আমলে নিচ্ছে না। সম্প্রতি গণমাধ্যম সূত্রে জানতে পারি শেভরণ বাংলাদেশের ব্যবসা বিক্রি করে দিচ্ছে। ফলে চাকরী হারানোর আতঙ্কে রয়েছি আমরা। এজন্য বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছি।
পর্যায়ক্রমে অন্যান্য গ্যাসক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিকরাও আন্দোলনে নামবে বলে জানান তিনি।
দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রোববার (১৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় শেভরন সিলেটের প্রধান কার্যালয় লাক্কাতুরায় শেভরনে কর্মরতরা অফিস ও প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে শ্রমিকরা ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- বকেয়া বাৎসরিক মুনাফা আদায়, চাকূরী স্থায়ীকরন, প্রতিবছর বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল সংযুক্তকরণ, জ্বালানী খনিজ ক্ষেত্রে শ্রমিক শ্রমিক কর্মচারীদেও ঝুঁকি ভাতা সংযুক্তকরণ, শ্রমিক কর্মচারীদের বাসস্থান ও যোগাযোগ ভাতা সংযুক্তকরণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য নীতি দূরিকরণ, অনাদায়ী ছুটি নগদিকরণ, সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন ধার্য্য করা, প্রত্যেক শ্রমিক কর্মচারীদের বীমায় সংযুক্তকরণ ও বেতন বৈষম্য দূরিকরণ।
মানববন্ধনে বক্তারা ঘোষিত ১১ দফা কর্মসূচী বাস্থবায়ন করা না হলে পরবর্তীতে তারা গ্যাস সরবরাহ সহ সবধরণের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার হুশিয়ারী দেন।
শেভরন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়া এসব কর্মচারীর দাবি, ১৯৯৪ সাল থেকে অক্সিডেন্টাল থেকে ইউনিকল ও শেভরনের প্রথম পর্যায় থেকে তারা চাকুরি করছেন। এদের মধ্যে থেকে কিছু শ্রমিককের স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হলেও তাদেও চাকুরী এখনো স্থায়ী করা হয়নি।
মানবন্ধনে শেভরনের এসএসসি মুজাহিদ উদ্দিন সেলিম, বুধ চন্দ্র শর্মা, মনীষ কান্তি, এমএসসি শারমিন আক্তার, মেহেদী হাসান, খুরশেদ আলম, এসসি মির জামান, পলাশ কান্তি, এও সুমন দেব ও মামুন সহ প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা, নিরাপত্ত্বা কর্মী ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
আপনার মন্তব্য