১৯ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৭:১১
নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে বানিয়াচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসী। মূল ভবনের বেইজ নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও পাথর ব্যবহার করায় শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে এ নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন তারা।
সুত্রে জানা যায়, ৩১ শয্যার উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে সরকার। উক্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়নে বরাদ্দ এসেছে ১১ কোটি টাকা। আর এই প্রকল্পটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে টেন্ডারের কাজ পায় ঢাকার “এস আলী এন্ড সন্স” নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভবন নির্মাণকাজে নিম্নমানের পাথর ও ইট ব্যবহারসহ আনুষঙ্গিক কাজ করে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
রোববার (১৮ ডিসেম্বর) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৪টি নতুনভবন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ৫তলা ভিত্তির ৩টি ও ৩লা ভিত্তির একটি ভবন। এরমধ্যে ৩টি ভবনের পিলার ও ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। ভবনগুলোর চারপাশের দেয়াল বেষ্টনীর কাজ বাকি রয়েছে। মূল ভবনের বেইজের কিছু অংশ ফাইলিং ও ইট সলিং করা হয়েছে।
জানা যায়, নির্মাণ কাজে অনিয়ম হচ্ছে জেনে শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ-পূর্ব ইউপি কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদক এর নেতৃত্বে এলাকার শতাধিক লোক নির্মাণাধীন ভবনের কাছে যান। এ সময় তারা দেখতে পান মূলভবন নির্মাণ ও বেইজে নিম্নমানের ইট দিয়ে সলিংয়ের কাজ করছে শ্রমিকরা। ফাইলিংয়ের নিচে বালু দেয়া হচ্ছেনা। এসব নিয়ে কথা বলতে চাইলে কাজের সিডিউল দেখাতে ব্যর্থ হন ঠিকাদারের প্রতিনিধি। ফলে এলাকাবাসীর বাঁধার মুখে উক্ত ভবনের কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হন তিনি।
এ সম্পর্কে এস আলী এন্ড সন্স কোম্পানির সাইট ইঞ্জিনিয়ার অসীম হাওলাদার বলেন, আমরা যার কাছ থেকে ইট কিনেছি তিনি ভুলবশত এক গাড়ি নিম্নমানের ইট দিয়েছেন। তবে যে ইট দিয়ে বেইজের ফাইলিংলে সলিং করা হয়েছে সেগুলো সরিয়ে নেয়া হবে। কাজ পুনরায় চালু করার জন্য এলাকাবাসীর সাথে কথাবার্তা চলছে।
নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়ে টিএইচও মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এর সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে দেখেছি কাজের স্থলে এলাকার কিছু লোক জমায়েত হয়েছেন। তবে কাজের অনিয়মের বিষয়ে কথা বলবেন ইঞ্জিনিয়ার।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ এইচইডি’র এ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শফিকুর রহমান জানান, কাজে কোন অনিয়ম হয়নি। ভালোমানের কাজ হচ্ছে। নিম্নমানের ইট ও পাথর সরিয়ে নেয়ার জন্য ঠিকাদার প্রতিনিধিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) সরেজমিনে এসে এলাকাবাসীকে কাজের সিডিউল দেখাবেন বলেও তিনি জানান। তবে নির্মাণকাজে এলাকাবাসীকে ও সাহায্য সহযোগিতা করতে হবে।
আপনার মন্তব্য