২০ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০১:৩৯
ফাইল ছবি
সম্প্রতি নগরীর রোগ ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলোতে অভিযান চালায় র্যাব পরিচালিত মোবাইল কোর্ট। এতে ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলোতে ব্যাপক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র ধরা পড়ে।
চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করা, চিকিৎসক ছাড়াই বড় ধরেনর টেস্টের রিপোর্ট প্রদানসহ এধরণের গুরুতর অনিয়মের অপরাধে মোটা অংকের জরিমানা করা হয় বেশ কয়েকটি ডায়গনস্টিক সেন্টারকে। সিলগালা করা হয় একটি প্রতিষ্ঠানকে।
ডায়গনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে এই অভিযান প্রশংসা কুড়ায় নগরবাসীর। তবে মান দুই দিন পরই বন্ধ হয়ে গেছে এই অভিযান। অভিযোগ রয়েছে ডায়গনস্টিক সেন্টারের মালিক, আর চিকিৎসক নেতাদের মধ্যস্থায়ই বন্ধ হয়ে পড়েছে র্যাবের এই মোবাইল কোর্টের অভিযান।
গত ১ ও ৩ ডিসেম্বর নগরীর অন্তত ৭টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৭ লাখ টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সিলগালা করা হয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে।
জানা যায়, এই অভিযানের পর পরই নড়েচড়ে বসেন ডায়গনস্টিক সেন্টার মালিকরা। যাদের বেশিলবাগই চিকিৎসক। ৪ ডিসেম্বর বৈঠক 'সিলেট প্রাইভেট হসপিটাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টার ওনার্স এসোসিয়েশন'।
ওই সভার পর ডায়গনিস্টক সেন্টার মালিকরা জানান, তাদের সাথে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) নেতাদের আলোচনা হয়েছে। এবং ডায়গনস্টিক সেন্টারে মোবাইল কোর্টের অভিযান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জানা যায়, ওই বৈঠকের সাথে চিকিৎসক নেতা ও ডায়গনিস্টক সেন্টার মালিকরা জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথেও বৈঠক করেন। এসময় তারা মোবাইল কোর্টের অভিযান বন্ধের জন্য চাপ দেন। তাদের চাপেই বন্ধ হয়ে যায় অভিযান।
এদিকে, ডায়গনিস্টক সেন্টারে মোবাইল কোর্টের অভিযানে সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানালেও চাপে পড়ে অভিযান বন্ধ হয়ে পড়ায় তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযান বন্ধে মালিকদের চাপ রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন সিলেটের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. গৌরমনি সিনহাও। তিনি বলেন, এই অভিযান নিয়ে চিকিৎসক ও মালিকদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ আছে। আমরা তাদের সাথে বৈঠক করেছি।
তিনি জানান, সিলেট নগরীতে ৬০ টি ডায়গনস্টিক সেন্টার রয়েছে।
মোবাইল কোর্টের অভিযন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও সিলেটের কিছু কিছু ডায়গনস্টিক সেন্টারে কিছু অনিয়ম হয় বলে স্বীকার করেন সিলেট প্রাইভেট হসপিটাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টার ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. নাসিম আহমদ।
তিনি বলেন, নগরীতে অনেক ডায়গনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনিয়মও হয়। আমরাও চাই, যারা নিয়ম-কানুম মানে না, ভুল চিকিৎসা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
কিন্তু মোবাইল কোর্টের যে অভিযান চালানো হয়েছে তা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে চালানো হয়েছে। সারাদেশেই টেকনিশিয়ান দিয়ে ইসিজি-সিটি স্ক্যান টেস্ট করানো হয়। কিন্তু টেকনিশিয়ান দিয়ে এসব টেস্ট করানোর কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। এসব হয়রানি বন্ধ হওয়ার দাবি জানিয়েছি আমরা।
তবে কোনো চাপে অভিযান বন্ধ রাখার কথা অস্বীকার করে র্যাব-৯ এর উপ-অধিনায়ক মেজর হুমায়ূন কবীর বলেন- র্যাব কর্তৃপক্ষ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান কিছুদিন পরপর পরিচালনা করবে।
ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের সিলিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। কখনো এটি জোড়েসোরে আবার কখনো একটি ঢিমেতালে চলে। তবে চাপে বন্ধ হওয়ার অভিযোগটি সঠিক নয়।
উল্লেখ্য, গত ১ ডিসেম্বর অদক্ষ লোক দিয়ে সিটিস্ক্যান ও ইসিজি পরীক্ষা করার দায়ে অভিজাত মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টার মেডিনোভাসহ ৫ প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১২ লাখ টাকা জরিমানা করে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এছাড়া ৩ ডিসেম্বর পুলিশ লাইন এলাকা ও স্টেডিয়াম মার্কেটের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে পৃথকভাবে মোট ১৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাছাড়া নিউ ইবনেসিনা নামের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালাসহ ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারকে এক বছর ও ল্যাব টেকনিশিয়ান ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
আপনার মন্তব্য