২০ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৬:১৭
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর প্রধান নির্বাহী এডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, জাফলংয়ের পাথর আমাদের জাতীয় সম্পদ। জাফলং শুধু সিলেটের শ্রমিকদের নয়, পুরো বাংলাদেশের। জাফলংয়ে যারা বসবাস করে জাতি হিসেবে তাদের জন্য আমাদের অনেক কিছু করার রয়েছে। পাথর কাটার জন্য নির্দিষ্ট একটি জোন থাকা দরকার এবং পাথর শ্রমিকদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর উদ্যোগে ‘জাফলং সংরক্ষণ: প্রয়োজন আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, জাফলংয়ের নদীর যে চিত্র দেখেছি নদী যদি না বাঁচে তাহলে আমাদের ব্যবসাও বাঁচবে না। আমরা যদি আমাদের সোনার ডিম পারার হাসকেই মেরে ফেলি তবে হাস ডিম পারবে না।
মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) সিলেট নগরীর আম্বরখানাস্থ একটি অভিজাত হোটেলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বেলা সিলেটের বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আখতার ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মদন মোহন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল ফতেহ ফাত্তাহ।
এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিলেটের প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ড. মো. নূরুল ইসলাম, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম, সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুলতান আহমদ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. শারফ উদ্দিন, জাফলং এর ৩নং পূর্ব চেয়ারম্যান মোঃ লুৎফুর রহমান লেবু, পরিবেশ অধিদপ্তর এর পরিদর্শক পারভেজ আহমদ, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: সিরাজুল ইসলাম, আইডিয়ার নির্বাহী পাবলিক অফিসার নজমূল হক।
এছাড়াও বিভিন্ন গ্রামের ভিলেজ কনজারভেশন ফোরাম (ভিসিএস) এর সদস্য, সাংবাদিক, এনজিও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, জাফলংয়ের পাথর কাটার ফলে পরিবেশ বিপর্যয় তথা শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণ ইত্যাদির ফলে মানুষের বেচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পাথর কাটার বিরুদ্ধে সামাজিক বিপ্লব ও সকলকে প্রতিরোধের জন্য জেগে উঠতে হবে। পরিবেশ রক্ষার জন্য সমাজের ভালো মানুষরা এগিয়ে গেলে প্রশাসন সাথে থাকে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন, শৈশব থেকে বনভোজন বা বেড়াতে যেতে হলে আমরা জাফলংয়ে যাবার কথা ভাবতাম। এখন জাফলং তার আগের রূপ বৈচিত্র্য হারাতে বসেছে। আমাদের স্বার্থেই জাফলংয়ের পরিবেশ আমাদেরকে রক্ষা করতে হবে। রক্ষা না করতে পারলে সিলেট অঞ্চল তথা প্রকৃতি কন্যাকে বাচাতে পারবোনা। আমাদের জাফলংয়ের রূপ বৈচিত্র্যকে ধরে রাখতে হবে।
আপনার মন্তব্য