২০ ডিসেম্বর, ২০১৬ ২২:৪৩
১৯৯৬ সালে সিলেটে এক জনসভায় নির্যাতিত ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ শামীমের নাম নিয়ে ইলিয়াস আলীর অত্যাচারের কথা বলেছিলেন শেখ হাসিনা। দেখিয়েছিলেন সহানুভূতি। শুধু শামীম নয়, তার ভাই তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ রাজুসহ তার পরিবারের অনেক সদস্য নানাভাবে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হন। এক পর্যায়ে এলাকা ছেড়ে চলে আসেন। এরপর চলে যায় ২০ বছর। কেউ খবর নেয়নি শামীম-রাজুদের।
পরিবারের কর্তা হাজী সৈয়দ জহুর আলী (মীরসাব) ও বড় ছেলে মোয়াজ্জেম আলগে রেখেছেন তাদের। শেষ সময়ে তিনি ও তার পরিবার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাতপ্রার্থী। নানাভাবে নির্যাতিত ও দলীয় সহানুভূতি বঞ্চিত পরিবারটি এবার নেত্রীকে কাছ থেকে দেখতে চান। আর এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন পরিবারের সদস্য সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ রাজু। সম্প্রতি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রেরিত এক আবেদনে তুলে ধরেন ২০ বছরের নানাকথা।
নির্যাতিত হওয়ার দুই বছর পর ১৯৯৮ সালে মার্চ মাসে সিলেটের বিশ্বনাথ থেকে নিখোঁজ হন আওয়ামী পরিবারের সদস্য সৈয়দ শামীম। ফলে আরও ভেঙ্গে পড়েন সদস্যরা। ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে আওয়ামীলীগ থেকে শাহ আজিজুর রহমান এমপি হন। শাহ আজিজুর রহমান কয়েকবার তাদের বাসায় তারিখ দিয়েও যাননি। ফলে দু:খ অভিমানে কাটছে বছরের পর বছর।
সিলেট বিশ্বনাথ থানা ছাত্রলীগ সাবেক সদস্য সৈয়দ রাজু, আবেদনে উল্লেখ করেন, তার বড় ভাই সৈয়দ মোক্তাদির হোসেন শামীম সিলেট বিশ্বনাথ থানা শাখার সাবেক প্রচার সম্পাদক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু আদর্শ প্রেরনায় রাজনৈতিতে জড়িয়ে পড়েন দুই ভাই।
১৯৯৫-১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের প্রহসন নির্বাচন বাতিল দাবির আন্দোলনে অন্যদের মতো মাঠে নামেন তারা। এম ইলিয়াস আলীর নির্বাচন এলাকায় আন্দোলনেও নামেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তৎকালিন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনম সফিকুল হকের নেতৃত্বে থানা আওয়ামী লীগের তৎকালিন সভাপতি মজমিল আলীসহ কর্মীরা মাঠে নামেন। ১৫ ফেব্রয়ারির নির্বাচন বাতিলের আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন সিলেট ২ আসনের একক প্রার্থী এম ইলিয়াস আলী বিশ্বনাথে আওয়ামীলীগের কোন হরতাল মিছিল মিটিং না করতে তার দলীয় লোক ও পুলিশকে নির্দেশ দেন।
সৈয়দ রাজু জানান, ১৯৯৬ সালের ৮মার্চ আওয়ামী লীগ সভাপতি মরহুম ইছকন্দর আলী বাড়ি থেকে শতশত নেতা কর্মী নিয়ে বিশ্বনাথ বাজারে মিছিল বের করা হয়। এতে তারা দুই ভাইও ছিলেন। মিছিলটি বাজারে আসার সাথে সাথে ইলিয়াস আলীর নির্দেশ মতো তার লোকজন মিছিলে গুলি ও হামলা করে। এতে রাজু ও শামীমসহ অনেকের গুলি লাগে। শামীম ছিলেন সাহসী। ছিলেন ইলিয়াস আলীর কাছে আতংক। বিএনপির মামলায় তারা জেলও খাটেন।
১০ মার্চ ইলিয়াস আলীর লোকজন অস্ত্র হাতে নিয়ে আওয়ামীলীগ কর্মীদের খুজতে থাকে। শহরে কোন আওয়ামী লীগ কর্মী নেই। বিশ্বনাথ বাজারের স্কুলের পাশে রাজুদের বাসায় যান ২০/২৫জন বিএনপির কর্মী। তারা বাসায় দরজার লাথি দেয়। সাজুর বড় ভাই সৈয়দ সেজু দরজা খুলেন। চড় থাপ্পর মেরে এম ইলিয়াস আলী তার ভাইকে সার্টের কলার ধরে ঘর থেকে টেনে হেছড়ে বেড় করে মারধর করে থানায় নিয়ে যান। ছোট ভাই সৈয়দ রুমেল আত্ম চিৎকারে কোন লোক এগিয়ে আসেনি। বাসার পাশে মসজিদ থেকে বেড় হন রাজুর বাবা। শীতের মধ্যে তার বাবাকে বৃদ্ধ বয়সে তৎকালীন বিএনপি নেতা পংকি খাঁনসহ তার কমীরা টেনে হেছড়ে রাস্তায় মারধর করে।
রাজু আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, তার পিতা একজন সমাজ হিতৈষী ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া ব্যক্তি। তার বর্তমান ৮৫ বছর। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা ভুলতে পারেননি এম ইলিয়াস আলী নির্যাতনের কথা। শুধু ভুলে গেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। বিএনপির একটার পর একটা অত্যাচারে তার পরিবার এলাকা ত্যাগ করেন। নিজ বাড়ি সিলেট শহরের দক্ষিন সুরমা জালালপুর মিরারগাঁও না গিয়ে সিলেট শহরে বাসা নেন। তাদের মেজ ভাই সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন জীবন যুদ্ধ করে বাবার আদর্শকে লালন করে এগিয়ে যান। তিনি আজ একটি বেসরকারী ব্যাংকে ব্যাপস্থাপক।
নিজেদের পরিবারে অভাব নেই, অভাব রাজনৈতিক সহমর্মীতার উল্লেখ করে ৩০ নুরানী বনকলাপাড়ার বাসিন্দা রাজু আবেদনে উল্লেখ করেন, ১৯৯৮সালে মার্চ মাসে আরেকটি অন্ধকার নেমে আসে। ভাই শামীম নিখোঁজ হন। অনেক খোজা খুজি করে তাকে আজও পাওয়া যায়নি। নেতাদের কাছে যান ভাইকে খোঁজার জন্য। নেতাদের সান্তনা নেই, পরামর্শও নেই। ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে ইলিয়াস আলী বিপুল ভোটে হেরে সিলেট ২ আসন আওয়ামী লীগ থেকে শাহ আজিজুর রহমান এমপি হন। শাহ আজিজুর রহমান কয়েকবার বাসায় তারিখ দিয়ে তার বাবাকে দেখতে যাননি। আজো একটি বারের মতো কেউ স্বরন করেনি তাদের। আবেদনে রাজু তার পরিবারকে একটি বারের মতো দেখা করা সুযোগ দিতে নেত্রীর হস্তক্ষেপ চান।
আপনার মন্তব্য