নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:২৩

‘প্রতারণার’ মাধ্যমে তারাপুর চা বাগানের সেই ভুয়া সেবায়েত জামিনে মুক্ত!

প্রায় দুই মাস দশ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন তারাপুর চা বাগানের সেই ভুয়া সেবায়েত দেওয়ান মোস্তাক মজিদ। তবে জামিন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আদালতকে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে তার বিরুদ্ধে। আর জামিন আদেশের পর সংশ্লিস্ট আদালতকে অবহিত না করে তাকে মুক্তি দেওয়াকে 'একধরণের প্রতারণা' বলে মন্তব্য করেছেন আইনজীবীরা।

মোস্তাক মজিদকে দেবত্তোর সম্পত্তি তারাপুর চা বাগানের ভুয়া সেবায়তে সাজিয়ে এই বাগান দখল করেছিলেন রাগীব আলী।
  
তারাপুর চা-বাগানের এক হাজার কোটি টাকা অাত্মসাতের আলোচিত মামলাটি সিলেট মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম (সিএমএম) অাদালতে বিচারাধীন রয়েছে।  তবে মোস্তাক মজিদকে অন্য আদালতের আসামি উল্লেখ জামিন আদেশ তামিল করেছে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার। গত সোমবার বিকেল সাড়ে চারটায় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। 

উচ্চ আদালত থেকে তাঁর জামিন আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে সিলেটের জেলা মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। বাস্তবে মামলা চলছে সিলেটের মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে। 

মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট আদালতে এ সংক্রান্ত নথি সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরে পৌঁছালে বিষয়টি ধরা পড়ে। ঘটনাটি প্রতারণামূলক উল্লেখ করে কারা কর্তৃপক্ষের যোগসাজশ রয়েছে কি না, এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর সূত্র জানায়। 

দেওয়ান মোস্তাক মজিদ তারাপুর চা-বাগানের ভুয়া সেবায়েত সেজে রাগীব আলীর নিকট বন্দোবস্ত দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় ২০০৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আবদুল কাদের বাদী হয়ে সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রাগীব অালী, ছেলে আবদুল হাই, ভুয়া সেবায়েত দেওয়ান মোস্তাক মজিদসহ ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। গত ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ তারাপুর চা বাগান পুনরুদ্ধার করার রায় দেন। রায়ে ১৭ টি নির্দেশনার মধ্যে মামলার পুনরায় তদন্ত করার নির্দেশ দিয়ে গত ১০ জুলাই পিবিআই তদন্ত করে মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে দেওয়ান মোস্তাক মজিদ তিন নম্বর আসামি। 

আদালত সূত্র জানায়, গত ১০ আগষ্ট আদালত থেকে ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে দেওয়ান মোস্তাক মজিদ এক মাস পলাতক থেকে গত ১০ অক্টোবর মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দী ছিলেন। এ মামলার অভিযোগ গঠন করে গত ১৪ ডিসেম্বর শুনানি হয়। আগামী ৩ জানুয়ারি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য্য রয়েছে।

মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম অাদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) মাহফুজুর রহমান জানান, উচ্চ আদালতে মোস্তাক মজিদের জামিন আবেদনের শুনানি হয়েছে ১৫ ডিসেম্বর। জামিন আদেশ হয় ১৮ ডিসেম্বর। পরদিন ১৯ ডিসেম্বর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। জামিন আদেশের পরদিনই এ সংক্রান্ত নথি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে পৌঁছানোর পেছনে কারণ খুঁজতে গিয়ে এক আদালতের অাসামি আরেক আদালতের বলে উল্লেখ করার তথ্য পাওয়া যায়। 

এপিপি বলেন, এটি এক ধরনের প্রতারণা। কারা কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল আলোচিত একটি মামলার আসামিকে মুক্তি দেওয়ার আগে সংশিষ্ট আদালতকে অবহিত করা। কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ এ কাজটি না করায় রহস্যজনক মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে মহানগর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারককে অবহিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও জানতে চাওয়া হবে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ছগির মিয়া জানান, কোনো আসামির জামিনে মুক্তি দেওয়ার আগে শুধু জামিন-সংক্রান্ত কাগজপত্রাদির সত্যতা যাছাই করা হয়। দেওয়ান মোস্তাক মজিদের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের জাামিন আদেশ সঠিক ছিল। উচ্চ আদালত থেকে তিনি চার মাস জামিন পেয়েছেন। 

কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আদালতকে অবগত করা হয়েছিল কি না, এমন প্রশ্নে জেল সুপার বলেন, ‌‌'এটা করার নিয়ম নেই।'

আপনার মন্তব্য

আলোচিত