২২ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:৪৫
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের পাথরকোয়ারিতে বোমা মেশিন চালাতে ৩০ লাখ টাকা ‘ঘুষ’ নেওয়া সেই ইউএনও আসিফ ইকরামসহ ছয়জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৫০ শতক জায়গা বন্দোবস্তে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করেছে। বুধবার রাতে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানায় দুদক সিলেটের উপসহকারী পরিচালক ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ বাদী হয়ে মামলা করেন।
যোগাযোগ করলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বায়েছ আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ওসি বলেন, মামলা নথিভুক্ত করে (নম্বর ২৩) আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মামলার এজহারে বলা হয়, কোম্পানীগঞ্জের পারকুল মৌজার ১৮০৫ দাগের ১.৫০ একর ভূমি মাঠ জরিপে রেকর্ড হয় এবং উক্ত ভূমি অবৈধভাবে আত্মসাৎ করা হয়। উল্লিখিত ভূমি অবৈধভাবে আত্মসাৎ করে এবং আত্মসাতের সহযোগিতা করে আসিফ ইকরামের নেতৃত্বে অভিযুক্তগণ দন্ডবিধির ৪০৬/৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অপরাধ করেছেন।
আসিফ ইকরাম সর্বশেষ সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। সাংবাদিক লাঞ্ছনার অভিযোগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে প্রত্যাহার করে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। মামলায় আসিফ ইকরাম ছাড়াও আসামি করা হয়েছে সিলেট সদরের সহকারী কমিশনার রাশেদ ইকবাল চৌধুরী, সিলেট সদর ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোশারফ হোসেন, জালাল উদ্দিন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. রফিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান।
আসিফ বিন ইকরাম ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদে যোগ দেন। এ সময় কোম্পানীগঞ্জের বৃহত্তম পাথরকোয়ারি ভোলাগঞ্জে বোমামেশিন চালাতে দুই দফায় ৩০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন। এ ঘটনার পর তাঁকে কোম্পানীগঞ্জ থেকে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় বদলি করা হয়।
ঘুষ নেওয়ার ঘটনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় ইউএনওর দুটি ইনক্রিমেন্ট বন্ধ রেখেছে।
শাল্লায় কর্মরত থাকাকালে গত ২৫ সেপ্টেম্বর শাল্লায় স্থানীয় এক সাংবাদিকদে মারধর করার ঘটনায় তাঁকে ২৮ সেপ্টেম্বর শাল্লা থেকে প্রত্যাহার করে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর থেকে তাঁর পদায়ন বন্ধ রয়েছে বলে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করে।
আপনার মন্তব্য