নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ ডিসেম্বর, ২০১৬ ২২:১৪

বাঘ মোকামে ‘পৌষের ক্ষির শিরণি’র ২০০ বছর

বিন্নি চাল আর খেজুর গুড়ের ক্ষির। পৌষ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার এ ক্ষির রান্না করে চলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বিতরণ। ‘পৌষের ক্ষির শিরণি’ নামে পরিচিতি। সিলেটের গোলাপগঞ্জের লক্ষীপাশায় হযরত মুকিম শাহ (রহ.)-এর বাঘ মোকামে পৌষের ক্ষির শিরণির ২০০ তম বার্ষিকী উদযাপন হয়েছে বৃহস্পতিবার।

দুপুর থেকে বিকেলে পর্যন্ত কয়েক হাজার নারী, পুরুষ ও শিশু কলাপাতার মধ্যে এ শিরণি সংগ্রহ করেন। বাংলা সনের পৌষ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার এ শিরণির প্রচলন হয়। বৃহস্পতিবার শিরণির ২০০ বছর উদযাপন হয়েছে।

বাঘ মোকামের খাদেম মবরু আহমদ জানান, গোলাপগঞ্জের লক্ষীপাশার মীরপুর চৌধুরী বাড়ি পারিবারিক ভাবে এ শিরণির আয়োজন করে থাকে। বাঘ মোকামে জোহরের নামাজ শেষে মিলাদ মাহফিলের পর শিরণি বিতরণ শুরু হয়। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা শিরণি বিতরণ করা হয়। দুই থেকে তিন হাজার মানুষ এ শিরণি সংগ্রহ করেন। এবার তিন হাজার মানুষের আয়োজন ছিল।

২০০ বছর হওয়ায় এবার বড় পরিসরে লক্ষীপাশার মুরাদিয়া-সবুরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে শিরণি বিতরণ করা হয়। নারী-পুরুষসহ শিশুনির্বিশেষে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শিরণি সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।

শিরণির আয়োজক চৌধুরী বাড়ির সন্তান বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম কিম বলেন, হযরত মুকিম শাহ আমাদের পূর্ব পুরুষদের একজন। তাঁকে যেখানে সমাহিত করা হয়, সেখানে এক সময় বাঘ ছিল। তাই তাঁর মাজার বাঘ মোকাম নামেও পরিচিতি পেয়েছে। বংশ পরম্পরায় ক্ষির শিরণির আয়োজন চলে আসছে। শুরুর দিনক্ষণ নির্ধারণ করতে না পারলেও এবার ২০০ বছর উদযাপনের বিষয়টি স্থানীয় প্রবীণদের মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত