তপন কুমার দাস, বড়লেখা

২৫ ডিসেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩৯

রাস্তার পাশে কাতরাচ্ছিলেন নারী, উদ্ধারে এগিয়ে গেলেন দুই যুবক

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে সড়কের পাশে কাতরাছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী (৩০)। উৎসুক জনতা দাঁড়িয়ে দেখছিলেন এক নারীর আর্তনাদ। যেনো কোনো বায়োস্কোপ দেখছেন সবাই। নারীটিকে কোনো সহযোগীতা বা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য এগিয়ে আসেননি কেউ।

এসময় কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন মো. হাসিব ও কামাল হোসেন নামে দুই যুবক। এসময় তাঁরা যন্ত্রনায় কাতরাতে থাকা নারীকে উদ্ধার করে ভর্তি করেন বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

গত মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার কুলাউড়া-চান্দগ্রাম সিঅ্যান্ডবি আঞ্চলিক সড়কের গাজিটেকা যাত্রীছউনি এলাকায়। উদ্ধারকারী মো. হাসিব ও কামাল হোসেন ফুড এন্ড বেভারেজ বিক্রয় প্রতিনিধি সংগঠন বড়লেখা শাখার উপদেষ্টা।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার কুলাউড়া-চান্দগ্রাম সিঅ্যান্ডবি আঞ্চলিক সড়কের গাজিটেকা যাত্রীছউনি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী। দুর্ঘটনায় আহত হয়ে রাস্তার পাশে পড়ে তিনি কাতরাচ্ছিলেন। মোঃ হাসিব ও তাঁর সহকর্মী কামাল হোসেন তাকে উদ্ধার করে হাসপতালে ভর্তি করেন। গত ৪দিন ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসকও পরম মমতায় তাকে চিকিৎসা প্রদান করছেন। উদ্ধারকারী মোঃ হাসিব এই সংক্রান্তে একটি স্ট্যাটাস তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসের সূত্র ধরে রবিবার (২৫ ডিসেম্বর) সরেজমিনে বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে দেখা যায় ১৬ নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মানসিক ভারসাম্যহীন নাম পরিচয় অজানা ওই নারী। নিজের নাম-ঠিকানাও বলতে পারেননি তিনি।

ওই নারীকে দেখতে হাসপাতালে আসা প্রভাষক দীপক কুমার বিশ্বাস জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে বাঁচিয়ে এই দুই যুবক মনবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তা সত্যি প্রসংশনীয়।
     
হাসপাতলে দায়িত্বরত স্টাফ নার্স মণি মালা দেবি জানান, ‘হাসপাতালে ভর্তির সময় অজ্ঞাত নারীর অবস্থা খুব খারাপ ছিল। পায়ে আঘাতের ফলে মাংসে পচন ধরেছে। দুর্ঘটনায় ক্ষতি হওয়া পায়ে ৩১টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ হয়েছেন। চিকিৎসার জন্য অনেক ওষুধ লাগছে। মুখে সে ওষুধ গ্রহণ করতে পারছে না। হাসপাতালে যা ওষুধ আছে আমরা তাই দিচ্ছি। এছাড়া যারা তাকে ভর্তি করেছেন তাঁরাও ওষুধ দিচ্ছেন।

উদ্ধারকারী মোঃ হাসিব বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে অনেক মানুষ যাওয়া-আসা করলেও কেউ ওই নারী সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। ডিউটির ফাঁকে আমিও আমার এক সহকর্মী রাস্তা দিয়ে যাবার সময় ওই নারীকে আহত অবস্থায় কাতরাতে দেখে এগিয়ে যাই। পরে গুরুতর আহতবস্থায় উদ্ধার করে হাসপতালে ভর্তি করি। তাঁর চিকিৎস্বার্থে অনেক ওষুধ লাগছে। প্রতিদিন আমরা সাধ্যনুযায়ী ওষুধ কিনে দিচ্ছি। মানবিক কারণে আমরা এ কাজটি করছি। অসহায় এ নারীকে সম্পূর্ণ সুস্থ্য করতে সমাজের সুহৃদ ও দানশীল ব্যক্তিদের কাছে সহায়তার আবেদন করছি।’

আপনার মন্তব্য

আলোচিত