২৬ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০১:১২
প্রবাসী শিল্প উদ্যোক্তা মোহাম্মদ মাহতবুর রহমান নাসির। নিজ উদ্যোগে দেশ ও দেশের বাইরে গড়ে তুলেছেন অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। যেখানেই হাত দিয়েছেন সেখানেই সোনা ফলিয়েছেন। নিজের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মাহতাবুর রহমান টানা চারবার সিআইপি নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বাধিক রেমিট্যান্স প্রেরণের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেছেন একাধিকবার।
মূলত সুগন্ধি ব্যবসার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করলেও মাহতাবুর রহমান তাঁর বিনিয়োগ প্রসারিত করেছেন চা, ব্যাংক, সেবাখাতসহ বিভিন্ন মাধ্যমে।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশিষ্ট এই শিল্প উদ্যোক্তাকে জড়িয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যাতে তাকে ঋণখেলাপি উল্লেখ করে তাঁর সম্পত্তি নিলামে উঠছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে রোববার সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম'র সাথে কথা বলেন মোহাম্মদ মাহতবুর রহমান নাসির।
আলাপকালে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সম্পত্তি নিলামের সংবাদটি একেবারেই ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি জীবনে কোনোদিন একটাকাও ঋণ নেই নি। বিশ্বের কোনো ব্যাংক থেকেই ঋণ নেই নি। ফলে আমার ঋণখেলাপি হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমার সম্পত্তি নিলামে তোলার সংবাদও হাস্যকর। এমন সংবাদের কোনো সত্যতা নেই।
মাহতাবুর রহমান নাসির বলেন, আল হারামাইন পারফিউমস গ্রুপ অব কোম্পানিজের মাধ্যমে আমি ব্যবসা শুরু করি। এটি আমাদের পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে যে ব্যবসায়ই বিনিয়োগ করেছি, সবখানেই আমার নিজের টাকা বিনিয়োগ করেছি। কখনই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নেই নি।
মাহতাবুর রহমান বলেন, দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে আমরা প্রবাসীরা দেশে এসে বিনিয়োগ করি। দেশে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ নানা সুযোগ তৈরি করতেই আমরা দেশে বিনিয়োগ করি। একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। কিন্তু যখন কোনো ভিত্তি ছাড়াই গণমাধ্যমে মনগড়া প্রতিবেদন করা হয়, তখন আমরা হতাশ হই। প্রবাসীদের নিয়ে এমন অপপ্রচার চালালে প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন বলে মনে করেন তিনি।
আল হারামাইন পারফিউমস গ্রুপ অব কোম্পানিজের এই চেয়ারম্যান বলেন, আমি ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের পরিচালনা পর্ষদ হতে গত বছরের ৪ জুলাই পদত্যাগ করি,যা একই বছরের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বোর্ড সভায় গৃহিত হয় এবং কোম্পানীর কোন আর্থিক দায়ের সাথে আমার সম্পৃক্ততা নেই-এই মর্মে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের পক্ষ থেকে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর একটি সার্টিফিকেটও প্রদান করা হয়।
ফলে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের দেনার দায়ে আমাকে জড়ানোর কোনো কারণে নেই। একারণে আমার সম্পত্তি নিলামেরও প্রশ্নই ওঠেই না।
তিনি বলেন, আমি বৈধ পথে অর্থ প্রেরণের জন্য প্রবাসীদের সবসময় উৎসাহ প্রদান করে থাকি। ২০১৩ ও ২০১৪ এবং সর্বশেষ ২০১৫ সালে সর্বাধিক রেমিট্যান্স প্রেরণের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করি।
তিনি বলেন, এবার টানা চতুর্থবারের মতো (২০১৫-১৬) সিআইপি নির্বাচিত হয়েছি। গত ১৮ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি আনুষ্ঠানিকভাবে সিআইপি এ্যাওয়ার্ড তুলে দিয়েছেন। এর আগে টানা তিনবার (২০১২-১৩, ২০১৩-১৪ এবং ২০১৪-১৫) আমি সিআইপি নির্বাচিত হন।
সিআইপি নির্বাচিত করার আগে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সবকিছু খোঁজখবর নেওয়া হয়। ঋণখেলাপি কি না তা তদন্ত করা হয়। আমার এমন কিছু নেই বলেই আমি চারবার সিআইপি নির্বাচিত হয়েছি।
মাহতাবুর রহমান বলেন, সৌদি আরবের মক্কায় পারিবারিক ব্যবসা ‘আল হারমাইন পারফিউমস্’-এর মাধ্যমে ১৯৭০ সালে আমি ব্যবসায় পদার্পন করি। বর্তমানে আল হারমাইন পারফিউমস্ গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আছি। সংযুক্ত আরব আমিরাত, জিসিসি ও অন্যান্য দেশে বিভিন্ন নামে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ১০০টির ওপর শাখা রয়েছে। (আল হারমাইন পারফিউমস্, আল হারমাইন ট্রেডিং এলএলসি, অউধ আল হারমাইন, নূর আল হারমাইন ট্রেডিং এলএলসি এবং আল হালাল পারফিউমস্ ইন্ডাস্ট্রি এলএলসি)। এছাড়া আমি দুবাইয়ে বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়িদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া (প্রাইভেট) স্কুলের অন্যতম স্পন্সর।
ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত রয়েছেন এই ব্যবসায়ী।
১৯৫৮ সালে সিলেটে জন্মগ্রহণকারী মাহতাবুর রহমান একাধারে এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, হামিদিয়া টি কোম্পানি লিমিটেড এবং আল হারমাইন হসপিটাল (প্রা.) লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং আল আরাফা ইসলামি ব্যাংক লিমিটেডের একজন স্পন্সর এবং এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসে লিমিটেডের পরিচালক। এছাড়াও তিনি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক এবং বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালের ট্রাস্টি।
আপনার মন্তব্য