২৮ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৯:২৭
রাজনগর উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রাম বালিগাঁও। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মুক্তিযোদ্ধা শহীদ দানু মিয়ার নামে ৩ দিনব্যাপী বিজয় উৎসব পালন করা হচ্ছে। এখানে এই শহীদের নামে রয়েছে রাস্তা ও পাঠাগারও। প্রতিবারের ন্যায় এবারও তিন দিনব্যাপী বিজয় উৎসবে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এই উৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে গ্রামীণমেলা, লোকজ উৎসব এবং প্রায় হারিয়ে যাওয়া সকল ধরনের গ্রামীণ খেলাধুলার আয়োজন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্যের এক চমৎকার সমন্বয় হয়ে উঠে এই উৎসব।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে বিজয় অর্জন হয়েছিলো সেই বিজয় দিবসকে ঘিরে বালিগাঁও গ্রামের কিছু উদ্যোমী তরুণ-তরুণীদের আয়োজনে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিন দিনব্যাপী বিজয় উৎসব পালন হয়ে আসছে।
প্রতিবারের ন্যায় এবারও ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর বালিগাঁও শহীদ দানু মিয়া স্মৃতি পাঠাগার বিজয় উৎসব পালন করে। এই বিজয় দিবস শুধু বালিগাঁও গ্রামে নয় পুরো উপজেলার সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ামোদীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
প্রায় হারিয়ে যাওয়া সকল ধরনের গ্রামীণ খেলাধুলা কাবাডি, গোল্লাছুট, হাড়িভাঙ্গা সহ সকল ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করা হয় এই উৎসবে। জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে এখানে অনেকেই এসে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া গ্রামে মেলাও বসে। মেলায় স্থানীয় উপকরণ সহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা শিশু ও তরুণ-তরুণীদের আকর্ষণ করে।
সাংস্কৃতিক পর্বে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী ধামাইল গান সহ আমাদের লোকায়ত সংস্কৃতির চমৎকার উপস্থাপনা ছিলো এখানে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান ও নাটিকা উপস্থিত সকলকে আকর্ষণ করে। বিজয় উৎসবের শেষ দিনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। আলোচনা পর্বে দুজন মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা দেয়া হয়।
এই অনুষ্ঠানের আয়োজক জুবায়ের আহমদ জুবের জানান, এই ধরনের অনুষ্ঠান করতে গিয়ে আমাদের বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে তোলা।
শহীদ দানু মিয়ার সন্তান মধু মিয়া জানান, গ্রামের কিছু উদ্যোমী শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের আয়োজন ও শ্রমে এই ধরনের একটি অনুষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছে।
গ্রামের কয়েকজন তরুণ জানান, এই ধরনের অনুষ্ঠানের কারণে গ্রামের তরুণ-তরুণীরা উচ্ছসিত থাকে। তারা এই অনুষ্ঠান থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শরীফুল ইসলাম জানান, প্রত্যন্ত গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে এই ধরনের আয়োজন সত্যিই প্রশংসার দাবিদার এবং এই ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়বে।
আপনার মন্তব্য