২৯ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০১:০৩
তৃণমূলের সাথে বিচ্ছিন্নতার কারণেই সুনামগঞ্জে হারতে হয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমনকে। এমনটিই মনে করেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।
তবে ইমন অনুসারীদের অভিমত, কালোটাকার কাছেই পরাজিত হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক।
বুধবার অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী নুরুল হুদা মুকুটের কাছে পরাজিত হন ইমন। মুকুটের ৭৮২ ভোটের বিপরীতে পান মাত্র ৪২০ ভোট। সিলেট বিভাগের মধ্যে কেবল সুনামগঞ্জেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন।
এরআগে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব ছিলেন এনামুল কবির ইমন। এই দায়িত্ব পালনকালেই দলের জেলা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। স্বচ্ছ ইমেজের জন্যও খ্যাতি রয়েছে ইমনের।
তবে প্রশাসক ও দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েও ইমন দলের তৃনমূল থেকেই বিচ্ছিন্ন। তৃণমূলে নিজের অবস্থান গড়ে তুলতে পারেননি। এমনটিই মনে করেন সুনামগঞ্জের রাজনীতির সাথে জড়িত কয়েকজন।
তাদের মতে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রে বড় ধরণের প্রভাব রয়েছে ব্যারিস্টার ইমনের। বাবা সাবেক সাংসদ থাকায়ও কেন্দ্রের সুনজর পেয়ে আসছেন তিনি। তবে সুনামগঞ্জে এখন পর্যন্ত তিনি তেমন অবস্থান গড়ে তুলতে পারেননি। বরং তৃনমূলের চেয়ে কেন্দ্রমুখীই ছিলেন তিনি। এই তৃণমূল বিচ্ছিন্নতার কারণেই বিরোধী দলহীন নির্বাচনেও দলের বিদ্রোহীর কাছে হারতে হয়েছে তাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই রাজনৈতিক নেতারা জানান, ইমন দীর্ঘদিন ইংল্যান্ডে ছিলেন। রাজনীতি করেছেন ঢাকায়। তারঁ ব্যক্তি ইমেজও ভালো। তবে সুনামগঞ্জের দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সাথে তাঁর তেমন যোগাযোগ ছিলো। প্রশাসক এবং দলীয় সাধারণ সম্পাদক হয়েও তিনি তৃণমূলে নিজের অবস্থান গড়ে তুলতে মনোযোগী হননি। ফলে নির্বাচনে দলের শীর্ষ নেতাদের অনেককেই ইমনের বিরুদ্ধে কাজ করতে দেখা গেছে।
তাদের মতে, স্থানীয় রাজনীতির হিসেব নিকেষও বুঝতে পারেননি ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করা এই তরুণ। ফলে কেন্দ্র থেকে সবসময় আশীর্বাদপুষ্ঠ হলেও জীবনে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজয়ের স্বাদ বরণ করতে হয়েছে তাকে।
অপরদিকে, নুরুল হুদা মুকুট প্রয়াত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সামাদ আজাদের সুবাদেই দলের তৃণমূলেও নিজের অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হন মুকুট। ফলে দলের কেন্দ্রের সুনজরে না থাকলেও ভোটের মাঠে তাকে ঠেকানো যায়নি।
তবে এমন দাবির সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন ইমনের ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত জগন্নাথপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা।
উপজেলা আওয়ামী লীগের এই সাংগঠনিক সম্পাদকের মতে, ব্যারিস্টার ইমনের বাবা ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। তাঁর মা এবং ভাইও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তিনি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। ফলে ইমন তৃণমূল বিচ্ছিন্ন, এমন অভিযোগ সত্য নয়। বরং কালো টাকা এবং দলীয় কিছু নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতার কাছে পরাজিত হয়েছেন ইমন, এমনটি মনে করেন মুক্তা।
এ ব্যাপারে ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগােযাগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
আপনার মন্তব্য