৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১৯:২৮
একবছরের আগে প্রতিবাদের মুখে পিছিয়ে এলেও চুনারুঘাটের হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ব্রাদার্সের চান্দপুর চা বাগানের চা শ্রমিকের চাষের জমিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রক্রিয়া পুণরায় শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন।
শনিবার হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে এই তথ্য দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সবার সহযোগীতা পেলে দ্রুত এই জমিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে।
জয়নাল আবেদীন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক থাকাকালেই চা বাগানের এই জমি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্ধ দেওয়া হয়।
শনিবার দুপুরে চুনারুঘাটের মফিজউদদীন চৌধুরী দাফিল মাদরাসার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও কম্পিউটার ল্যাবের উদ্বোধননী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জয়নাল আবেদীন।
এসময় তিনি হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি দায়িত্ব থাকাকালে চুনারুঘাটের চা বাগানের জমি ছাড়িয়ে এনে অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য বরাদ্ধের ব্যবস্থা করেছিলাম।
এরকারণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রয়োজন। সিলেটে ও মৌলভীবাজারে অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। কিন্তু হবিগঞ্জ পিছিয়ে থাকবে তা হবে না। তাই আমি এ উদ্যোগ নিয়েছিলাম।
'বরাদ্ধকৃত ৫শ' একর জমি কোনো কাজে লাগতো না' জানিয়ে তিনি বলেন, এই জমি চা বাগানের জন্য নেওয়া হলেও চা চাষ হতো না। বাগানের শ্রমিকরা ব্যবহার করতো। কিন্তু অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে এলাকার উন্নয়ন হবে। মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এলাকায় বেকার থাকবে না।
তিনি বলেন, ''সেসময় বিভিন্ন গোষ্ঠির আপত্তিতে অর্থমন্ত্রী এইস্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নেন। আমি সিলেটের জেলা প্রশাসক হওয়ার পর এ ব্যাপারে তাঁর সাথে কথা বলি। এসময় তিনি আমাকে বলেন, 'এইস্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে পরিবেশের ক্ষতি হবে, চা বাগান ধ্বংস হবে। শ্রমিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে'।''
''এসময় আমি অর্থমন্ত্রীকে বলি, 'যদি আমার উপর আপনার আস্থা ও বিশ্বাস থাকে তাহলে এই স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করতে পারেন। কোনো ক্ষতিই হবে না। বরং উপকার হবে।''
জেলা প্রশাসক বলেন, আমার এই কথায় আশ্বস্থ হয়ে অর্থমন্ত্রী এই জমিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে সম্মত হয়েছেন। এবং এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছেন।
জয়নাল আবেদীন বলেন, এবার আপনাদের সহেযাগীতা প্রয়োজন। আপনারা নিজেরা না চাইলে কেউ আপনাদের উন্নয়ন করতে পারবে না।
তিনি বলেন, আমি জয়েন্ট সেক্রেটারী হিসেবে পদন্নোতি পেয়েছি। শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগ দেওয়ার কথা। যদি যোগ দেই, তাহলে আমি কথা দিচ্ছি, আপনাদের সহেযাগীতা পেলে এই স্থানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হবে।
জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমার ভালো সম্পর্ক আছে। তাঁর সাথে আমার কথা হয়। এই ব্যাপারে আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথেও এ ব্যাপারে কথা বলবো।
জেলা প্রশাসকের পদ একটি 'সেমি পলিটিক্যাল পদ' উল্লেখ করে সিলেটের জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের পছন্দের মানুষদেরই জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব দেন।
এসময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্য জয়নাল আবেদীন বলেন, আপনারা কি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে সহযোগীতা করবেন? করলে হাত তুলুন।
এসময় উপস্থিত অনেকেই হাত তুলে জেলা প্রশাসককে স্বাগত জানান।
এরপর জেলা প্রশাসক বলেন, তাহলে আপনারা শ্রমিকদের বুঝান। অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে তাদেরও স্বল্পবেতনে চা বাগানে কাজ করতে হবে না।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মাহবুব আলী।
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ব্রাদার্সের চান্দপুর চা বাগানের ধানি জমিতে ২০১৫ সালে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় সরকার। সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামেন চা বাগানটির শ্রমিকরা। শ্রমিকদের টানা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার।
জানা গেছে, ভূমি মন্ত্রণালয় ২০১৫ সালের ২৬ আগস্ট অকৃষি খাসজমি দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত মামলার মাধ্যমে চুনারুঘাটের চান্দপুর টি জি মৌজার ৫১১ দশমিক ৮৩ একর জমি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যানের কাছে বন্দোবস্তের প্রস্তাব অনুমোদন করে। ২১ সেপ্টেম্বর ১/১ খতিয়ানে রেকর্ড সংশোধন করা হয়। আর ২১ নভেম্বর তা বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আপনার মন্তব্য