নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৮:৩১

অবশেষে সেই বিদ্যালয়ে চা শ্রমিকদের জন্য ১০ ভাগ কোটা রাখার সিদ্ধান্ত

চা-বাগানের জমিতে নির্মিত সিলেটের নতুন সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তিতে চা-শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের ১০ ভাগ কোটা সংরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রনালয়। চা শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি মন্ত্রনালয় প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়। শীঘ্রই এ ব্যাপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

এ দিকে, প্রশাসন দাবি মেনে নেওয়ায় নিজেদের চলমান আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে চা-বাগান শিক্ষা অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ। এই ব্যানারেই গত ডিসেম্বর থেকে এই বিদ্যালয়ের ভর্তিতে বিশেষ কোটার দাবিতে আন্দোলনে নামে চা শ্রমিকরা।

চা শ্রমিক সন্তানদের জন্য কোটা রাখার প্রাথমিক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে এই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ১০ ভাগ শিক্ষার্থী ভর্তি সংরক্ষিত রাখার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোটা সংরক্ষণের ব্যাপারে মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে।

ন্যাশনাল টি কোম্পানির অধীন সিলেট নগরের উত্তরে লাক্কাতুরা চা-বাগানের দুই একর জায়গা অধিগ্রহণ করে ২০১৩ সালের ২৩ নভেম্বর থেকে সিলেট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় নামে নতুন বিদ্যালয় স্থাপনকাজ শুরু হয়। শিক্ষাপ্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রায় নয় কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামোগত কাজ শেষে চলতি বছর থেকে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর কথা রয়েছে। গত মাস থেকেই শুরু হয়েছে ভর্তি কার্যক্রম।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয় স্থাপনকালে চা-বাগান এলাকা হওয়ায় ভর্তির ক্ষেত্রে চা-শ্রমিকদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু ভর্তি প্রক্রিয়ায় এ বিষয়টির কোনো উল্লেখ না থাকায় ক্ষুব্ধ চা-শ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন।

সিলেট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিলেট মহানগরে মাত্র দুটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। ১৮৩৬ সালে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯০৩ সালে সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে সিলেটে আর কোন সরকারি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়নি। প্রায় ১১৩ বছর পর সিলেটে নতুন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করা হলো।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত