ডেস্ক রিপোর্ট

২১ জুলাই, ২০১৫ ১৯:৫৩

গাফফার চৌধুরীর পাশে প্রবাসী কবি সাহিত্যিক শিল্পী ও সংস্কৃতি-কর্মী

“সম্প্রতি নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে সাংবাদিক সাহিত্যিক আবদুল গাফফার চৌধুরী প্রদত্ত বক্তব্যকে বিকৃত করে একটি চিহ্নিত-মহল ধূম্রজাল সৃষ্টি করেছে। জীবন্ত কিংবদন্তী- এই প্রথিতযশা সাংবাদিক সহজ সরলভাবে ইসলাম ধর্মের সূচনাপর্ব, বিকাশ ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন বিষয়ে ভাষা গত তারতম্য ব্যাখ্যা দেন এবং বাংলাদেশ ও বাঙালি সমাজ বিবর্তন নিয়ে কথা বলেন।

সব মানুষের সব বক্তব্য এক না হতে পারে। প্রকাশভঙ্গীও সমান না হওয়া স্বাভাবিক। কারো মতের সাথে দ্বিমত হলে, পাল্টা মত যুক্তি, তর্কের মাধ্যমে উত্থাপন করা যায়। ভুল ধরিয়ে দেয়া যায় অথবা সমালোচনার মাধ্যমে মত সংশোধনের পথ দেখানো যায়। তা না করে, এক শ্রেণীর ফিতনা-বাজ চিহ্নিত মহল আবদুল গাফফার চৌধুরীকে লক্ষ্য করে নানানভাবে অমার্জিত ভাষায় কটূক্তি ছুড়েছেন। তাঁর মতের সাথে দ্বিমত পোষণ করেও, বলা যায় এ সব তাঁর প্রাপ্য নয়।

নিউইয়র্ক ও লন্ডনে চিহ্নিত মহলটির নিন্দনীয় প্রতিক্রিয়া আমাদের নজরে এসেছে। বিলেতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অভিবাসী বাঙালি ও বাংলাদেশের সচেতন মহল ইতোমধ্যে এ-সব  প্রতিক্রিয়ার জবাব ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন; এমনকি  আবদুল গাফফার চৌধুরী নিজে ভুল বুঝাবুঝি নিরসনে বিবৃতি দিয়েছেন।

আমরা যতটুকু জানি, আবদুল গাফফার চৌধুরী একজন ধর্ম বিশ্বাসী। তিনি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছিলেন। তিনি একাধিকবার পবিত্র হজ্জ্ব করেছেন। বরিশালের সম্মানী ও জনহিতৈষী একটি মুসলিম জমিদার পরিবারের সন্তান তিনি। তিনি মহান ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী, 'আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' ঐতিহাসিক এই কালজয়ী গানের রচয়িতা।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য অবদান জাতির জন্য গর্বের। সামগ্রিকভাবে তিনি সমগ্র বাঙালি জাতির কাছে প্রিয়পাত্র এবং শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব। এ রকম একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তির একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভুল ব্যাখ্যা দেয়া ও তাঁর চরিত্রে কালিমা লেপনের সৃষ্টি করা অনভিপ্রেত ও নিন্দনীয়। তাঁকে উদ্দেশ্যমূলক ভাবে  ‘মুরতাদনাস্তিকবলা অশোভন ও অগ্রহণযোগ্য। কাউকে না বুঝে অযথা অপবাদ দেয়া অপরাধ হিশেবে গণ্য বলেই বিবেচ্য হওয়া স্বাভাবিক। আমরা এ সব অগ্রহণযোগ্য বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করছি এবং অমার্জনীয় ও অশোভন কটূক্তির তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

সবশেষে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শান্তিপ্রিয় মানুষের আন্তরিকতা সর্বাগ্রে কাম্য। আর তাই আমাদের কামনা, এখানেই এ সব অপরাজনীতির অবসান হবে। আমরা সকলেই জানি, আবদুল গাফফার চৌধুরী প্রগতিকামী মানুষের মন ও মননের দিশারী এবং বাঙালি জাতির সংকটে অকুতোভয় সৈনিক। তাঁকে যথাযথ সম্মান জানাতে প্রতিশ্রুতি-বদ্ধ থাকা শান্তি ও প্রগতির সোপানে চলার সামিল।

আমরা আরো দ্ব্যর্থহীনভাবে জানাতে চাই, বিলেতের কবি-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীসহ সর্বস্তরের প্রগতিকামী মানুষ তাঁর পাশে আছে ও থাকবে। সেই সঙ্গে আবদুল গাফফার চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি করা থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। দুরভিসন্ধিকারীদের বোধোদয় হোক, এবং শান্তি ও প্রগতি হোক সকলের নিত্য সহচর!

স্বাক্ষর দাতা: বিলেতের কবি সাহিত্যিক,সাংবাদিক, শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মী। 

কাদের মাহমুদ, সালেহা চৌধুরী, শামীম আজাদ, ইসহাক কাজল, হামিদ মোহাম্মদ, সিকদার কামাল, গোলাম কবির, সৈয়দ এনাম, নাজনিন সুলতানা শিখা, মুজিবুল হক মনি, গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ ইকবাল, শাহ এনাম, ফারুক আহমদ, কামাল রহমান, আসমা মতিন, আতাউর রহমান মিলাদ, সফিয়া জাহির, মুকিদ চৌধুরী, ময়নূর রহমান বাবুল, এ টি এম কায়সার, শাহ শামীম আহমদ, দেলোয়ার হোসেন মঞ্জু, মুজিব ইরম, মুনিরা চৌধুরী, শামীম শাহান, মিলটন রহমান, খাদিজা রহমান, হেনা বেগম, সাজিয়া স্নিগ্ধা, আকাশ ইসহাক, ইয়াসমিন মাহমুদ পলিন, সুমন সুপান্থ, এম মশাইদ খান, সৈয়দ হিলাল সাইফ, কাজল রশীদ, নজরুল ইসলাম অকিব, দেওয়ান সৈয়দ রব, সাদ মিয়া, এ কে এম আবদুল্লাহ, আরাফাত তানিম, ইকবাল হোসেন বুলবুল, উদয় শঙ্কর দুর্জয়, জামিল সুলতান, জুয়েল রাজ, গোলাম কিবরিয়ারেজুয়ান মারুফ, সাগর রহমান,কামরুন নাহার রুনু,আবু মকসুদ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত