সিলেটটুডে ডেস্ক

১৭ আগস্ট, ২০২১ ২১:৩৫

নিজেকে ‘প্রেসিডেন্ট’ দাবি করে তালেবানের বিরুদ্ধে আমরুল্লাহর প্রতিরোধের ডাক

আফগানিস্তান পরিস্থিতি

আফগানিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ সংবিধান অনুযায়ী নিজেকে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সেই সঙ্গে তালেবানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন তিনি। কাবুলে নিয়ন্ত্রণ হারানোর দুইদিন পর এই প্রতিরোধের ডাক এলো।

একটি টুইট বার্তায় আমরুল্লাহ লেখেন, ‘আফগানিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতি, পালিয়ে যাওয়া, পদত্যাগ বা মৃত্যু হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হন। বর্তমানে আমি দেশেই আছি এবং আমিই বৈধ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট।’

নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণার আগে এক টুইট বার্তায় আমরুল্লাহ জানিয়েছেন, তালেবানের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়ার ক্ষেত্রে তিনি কখনই সাহস হারাবেন না। কোনও অবস্থাতেই তিনি তালেবানের কাছে হার মানবেন না।

এসময় আফগান জনগণকে তালেবান বিরোধী প্রতিরোধে যোগ দেয়ারও আহ্বান জানান দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক এই প্রধান।

তালেবানরা রাজধানী কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরুল্লাহ সালেহর সাবেক পরামর্শদাতা এবং তালেবানবিরোধী যোদ্ধা আহমদ শাহ মাসুদের ছেলের সাথে তার ছবি আসতে শুরু করে। এ সময় তাকে হিন্দু কুশের একটি পাহাড়ি এলাকায় দেখা যায়। কিন্তু রোববার তালেবান রাজধানী কাবুলে প্রবেশের পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে আফগানিস্তানের এই ভাইস প্রেসিডেন্ট দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে খবর আসে।

ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি বলছে, স্থানীয় একটি মিলিশিয়া বাহিনীর কমান্ডার মাসুদের ছেলেকে নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট সালেহ তালেবানকে মোকাবিলায় পাঞ্জশিরে গেরিলা আন্দোলনের জন্য মিলিশিয়াদের সংগঠিত করছেন বলে ছবিতে দেখা যাচ্ছে। প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষার দুর্গ হিসেবে পরিচিত পাঞ্জশির উপত্যকা গৃহযুদ্ধের সময় ১৯৯০ এর দশকেও তালেবানের হাতে পতন হয়নি। এমনকি সোভিয়েত আমলেও এই উপত্যকা জয় করতে পারেনি কেউই।

এক সময়ের গোয়েন্দা প্রধান থেকে পরবর্তীতে আফগানিস্তানের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া আমরুল্লাহ সালেহ তালেবানের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। কিশোর বয়সে বাবা-মা হারানো সালেহ ১৯৯০ এর দশকে গেরিলা কমান্ডার মাসুদের সাথে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৯৬ সালে তালেবান রাজধানী কাবুলের দখল নেওয়ার আগে পর্যন্ত সরকারে কাজ করেছিলেন আমরুল্লাহ। পরে দেশটির কট্টরপন্থী তালেবানরা সালেহকে আটকের উদ্দেশ্যে তার বোনকে নির্যাতন করে। গত বছর প্রভাবশালী সাময়িকী টাইমে লেখা এক নিবন্ধে সালেহ বলেছিলেন, ১৯৯৬ সালের সেই ঘটনার কারণে তালেবানকে নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি আজীবনের জন্য পাল্টে গেছে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যখন নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে হামলা হয়, তখন সালেহ তালেবানবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক জোটের হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রধান সম্পদ বনে যান তিনি।

সিআইএর নজরে আসায় তার জীবনের গতিপথ পাল্টে যায়, ২০০৪ সাালে আফগানিস্তানের নবগঠিত গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিরেক্টরেটের (এনডিএস) প্রধান নিযুক্ত হন তিনি। এনডিএসের প্রধান থাকাকালীন সালেহ তালেবান বিদ্রোহীদের ভেতরে এবং পাকিস্তান সীমান্তজুড়ে তথ্যদাতা এবং গুপ্তচরদের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করেন।

তালেবানের নেতাদের গতিবিধির ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সালেহকে পাচার করেন পশতু ভাষার এজেন্টরা। সালেহ নেতৃত্বাধীন আফগান গোয়েন্দারা সেই সময় তালেবানের প্রতি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সহায়তার প্রমাণ পান। ২০১০ সালে কাবুলের শান্তি সম্মেলনে হামলা হওয়ায় আফগানিস্তানের গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় সালেহকে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত