আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০২ নভেম্বর, ২০২১ ১২:৩৪

২০৭০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে আনার প্রতিশ্রুতি মোদীর

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ২০৭০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনবে ভারত। সোমবার গ্লাসগোয় কোপ-টোয়েন্টি সিক্স সম্মেলনে এমন প্রতিশ্রুতি দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এবারই প্রথম নেট জিরো অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলো দিল্লি। যদিও ২০৫০ সালের মধ্যেই এ পদক্ষেপ কার্যকরে ধনী দেশগুলোকে চাপ দেয়াই ছিল এবারের জলবায়ু সম্মেলনের লক্ষ্য। নেট জিরোতে পৌঁছানোর জন্য ২০৬০ সাল পর্যন্ত সময় নিয়েছে চীন। তবে ২০৫০ সালের মধ্যেই কার্বন নিরপেক্ষ অবস্থানে যাওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। নরেন্দ্র মোদিই ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্ব মঞ্চে দেশটির কার্বন নিঃসরণের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিলেন।

মোদি বলছেন, ২০৩০ সালের মধ্যেই বিদ্যুতের পঞ্চাশ শতাংশ চাহিদাই পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তির মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলবে ভারত। ২০৩০ সালের মধ্যেই ভারতের কার্বন নিঃসরণ আরও এক বিলিয়ন টন কমিয়ে ফেলার দাবিও করেন ভারতের এই প্রধানমন্ত্রী।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অপচয় না করে আমাদের উচিত সুচিন্তিত ভাবে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া।’

২০৭০ সালের মধ্যে কার্বন দূষণের মাত্রা পুরোপুরি কমিয়ে ফেলার লক্ষ্যমাত্রা পূরণের পাশাপাশি সম্মেলনে মোট পাঁচটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মোদি। এই পাঁচটি প্রতিশ্রুতিকে বিশ্বের কাছে ভারতের উপহার বলেও উল্লেখ তিনি। পাঁচটি প্রতিশ্রুতি হচ্ছে-

১. ২০৩০ সালের মধ্যে অ-জীবাশ্ম শক্তির উৎপাদন বাড়িয়ে ৫০০ গিগাওয়াট করবে ভারত।

২. ওই একই সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে শক্তির চাহিদার ৫০ শতাংশই পূরণ করা হবে পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তির মাধ্যমে।

৩. চলতি বছর থেকে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত যে পরিমাণ কার্বন দূষণ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, তার থেকে ১০০ কোটি টন কম কার্বন নিঃসরণ করবে।

৪. ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৪৫ শতাংশ কম করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ভারত।

৫. সর্বশেষে, ২০৭০ সালের মধ্যে কার্বন দূষণের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করবে ভারত।

সোমবার (১ নভেম্বর) স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় শুরু হওয়া জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন ১২০টিরও বেশি দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান। প্রথমদিনেই বক্তব্য রাখেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ শীর্ষ ধনী ও কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আরও নানা পদক্ষেপের অঙ্গীকার করেন তারা।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত