ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক

১১ জুলাই, ২০১৫ ০২:১২

সিপরাসের নতুন প্রস্তাবকে ইতিবাচক বলছেন ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ

ইউরোপীয় অর্থদাতাদের হাতে দেওয়া গ্রিসের কঠোর অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনাটির অনুমোদন দেবে কি-না এ প্রশ্নে দেশটির সংসদে ভোট গ্রহণের আগমুহূর্তে দেশটির পার্লামেন্টে তুমুল তর্কবিতর্ক চলছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালের দিকেই এই বিতর্ক শুরু হয়। বলা হচ্ছে, নতুন প্রস্তাবে কৃচ্ছ্রের কঠোর শর্ত মেনে নেওয়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী সিপরাসের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এখন চ্যালেঞ্জের মুখে।

গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ডেডলাইন শেষ হওয়ার আগ মুহুর্তেই ইউরোপীয় দাতাদের কাছে নতুন করে সংস্কার প্রস্তাব জমা দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলেক্সিস সিপরাস। তবে গ্রিসের অর্থনৈতিক ধস এবং ইউরোজোন থেকে বেরিয়ে যাওয়া সম্ভাবনা ঠেকাতে সর্বশেষ এই প্রস্তাবটি সম্পর্কে শুক্রবার ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন ইউরোজোনের প্রভাবশালী দেশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ।

রোববার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পূর্ণাঙ্গ সম্মেলনের আগে ইউরোজোনের অর্থমন্ত্রীরা নতুন এ প্রস্তাব যাচাই করবেন। খবর :এএফপি, বিবিসি।

সিপরাসের নিজের সিরিজা পার্টির মধ্যে বামপন্থিরা নতুন এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করলেও পার্লামেন্টে তা অনুমোদিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে সিরিজা পার্টির আইন প্রণেতাদের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সিরপাস।

আর আগে সিরিজা পার্টির পার্লামেন্টারি মুখপাত্র নিকোস ফিলিস বলেছেন, নতুন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার (বেলআউট) প্যাকেজ নিয়ে আলোচনার জন্য পার্লামেন্ট সরকারকে ম্যান্ডেট দেবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। পার্লামেন্টের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৬২ আসন রয়েছে জোট সরকারের।

এ ছাড়া অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রশ্নে বিরোধী অনেক এমপিরও সমর্থন রয়েছে সরকারের প্রতি। তবে গ্রিসের জ্বালানিমন্ত্রী প্যানাজিওটিস লাফাজানিস বৃহস্পতিবার বেলআউটের বিরোধিতা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, রোববারের গণভোটে না ভোট দেওয়ার মাধ্যমে গ্রিসের জনগণ আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে এথেন্সে শুক্রবার নতুন বেলআউটের শর্তের সমর্থন ও বিরুদ্ধে আবারও বড়সড় সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থদাতাদের সুপারিশ অনুযায়ী কর বৃদ্ধি, অবসর ভাতা হ্রাস করার কথা বলা হয়েছে ১৩ পৃষ্ঠার দীর্ঘ এই প্রস্তাবে।

গ্রিসের গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, শিপিং কোম্পানির ওপর কর বৃদ্ধি, রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সার্ভিসসহ সব কিছুর ওপর ভ্যাটের হার সমান করে ২৩ শতাংশ করা ও ২০১৬ সাল নাগাদ প্রতিরক্ষা ব্যয় ৩০ কোটি কাটছাঁট করার কথা রয়েছে নতুন প্রস্তাবে। বেসরকারিকরণ এবং ১২ বিলিয়ন ইউরোরও বেশি ব্যয় সংকোচনের কথা রয়েছে। তবে এর আগে ইউরোজোনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকে এটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন দেশটির নেতারা।

গত সপ্তাহের গণভোটেও এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছিল দেশটির জনগণ। নতুন প্রস্তাবে তিন বছরের জন্য অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও ঋণের পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ৩ হাজার ৫০০ কোটি ইউরোর একটি বেইল আউট চাচ্ছে গ্রিস।

সিপরাসের নতুন প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক মহলের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও একে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ।

তিনি বলেন, গ্রিস যে ইউরোজোনে থাকতে আগ্রহী, এথেন্সের নতুন প্রস্তাবেই তার প্রতিফলন ঘটেছে। কারণ তারা যে প্রস্তাব পেশ করছে, তা যেমন গুরুত্বপূণ, তেমনি বাস্তবসম্মত। শুক্রবার কারিগরি পর্যায়ে সিপরাসের নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয় ইইউ নেতাদের মধ্যে।

শনিবার এ নিয়ে ব্রাসেলসে ইউরোজোনের অর্থমন্ত্রীরা বৈঠক হওয়ার কথা। বিকেলে ইউরোপীয় নেতারাও ফের দ্বিতীয় দফা আলোচনা করার কথা। এ আলোচার দুই ঘণ্টা পরই শুরু হবে ইইউর পূর্ণাঙ্গ সম্মেলন।

গ্রিসের আন্তর্জাতিক ঋণদাতা ইউরোপীয় কমিশন, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে নতুন প্রস্তাব দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেয়। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী সিপরাস এরপর তিন ঋণদাতার কাছে এই নতুন প্রস্তাব দেন। গ্রিসের ঋণ সংকট নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ইইউর সঙ্গে দেশটির অচলাবস্থা চলছে। ইউরাপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক পরিস্থিতিকে ইইউর ইতিহাসে সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত